বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বললেন ‘আমরা খুবই খুশি’

আপডেট : ২৬ জুন ২০২২, ০৫:৩২ এএম

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বল। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি, এই সেতুর নির্মাণ শেষে উদ্বোধন হচ্ছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়নের বন্ধু হিসেবে আমরা উচ্ছ্বসিত। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ বিপুল সুবিধা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার। আমরা এই সেতুর গুরুত্ব বুঝতে পারি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

মার্সি টেম্বল বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভ্রমণের সময় কমে আসবে। কম সময়ে কৃষক তার খামারে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারবে। সব মিলিয়ে এই সেতু এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, দারিদ্র্যও কমিয়ে আনবে।

২০১১ সালে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে ঋণচুক্তি সই করা হয়। পরে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে অর্থায়ন বন্ধ করে। বাকি দাতা সংস্থাগুলোও মুখ ফিরিয়ে নেয়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্যইে গড়ে তুলবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। উন্নয়ন-সহযোগীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের অর্থায়নের দরকার নেই। সেতুর মূল কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের শেষের দিকে। আজ সেই সেতু উদ্বোধনে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার

পদ্মা সেতু দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ মন্তব্য করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, এই সেতু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং উপ-অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ বাড়াবে। গতকাল শনিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার প্রান্তে পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলে তিনি। বাংলাদেশের বৃহত্তম এই সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। দোরাইস্বামী এ সময় বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই দিনে  বাংলাদেশের ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন এবং শুভ কামনা জানাই। এই সেতু হওয়ায় আমরা খুব আনন্দিত।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এ প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। আমি এ অঞ্চলে আরও অনেক বেশি বাণিজ্য এবং ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সহজে যোগাযোগ এবং ভ্রমণের সুযোগ দেখতে চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত