বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে দুজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার বৈধতা প্রশ্নে দেওয়া রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ রায় দেয়।
রায়ে বলা হয়েছে, দুজন পলাতক বিবেচনায় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবীর মামলা পরিচালনার সুযোগ নেই।
একইসঙ্গে দুদকের এ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা এসেছে হাইকোর্ট থেকে।
প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। এ মামলায় তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও তারেকের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাটি করে দুদক।
তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলা বাতিল চেয়ে ও এর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট আবেদন করেন তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান। পরে ওই বছর হাইকোর্ট মামলার বৈধতা নিয়ে রুল ও কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেয়। সম্প্রতি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রিট আবেদনগুলো শুনানির জন্য ওঠে। তবে, তাদের পলাতক উল্লেখ করে তাদের পক্ষে আইনজীবী থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এ রায় হলো।
রায়ে হাইকোর্ট বলে, তারেক রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। আত্মসমর্পণ না করে তিনি আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন না এবং তার পক্ষে আইনজীবীর শুনানির সুযোগ নেই। একইসঙ্গে জোবাইদা রহমানের বিষয়ে আদালত বলে, গত ১৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের রায়ে এসেছে, তিনি পলাতক। আইনজীবীর মাধ্যমে তার মামলা চালানোর এখতিয়ার নেই। রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, এ রায়ের মাধ্যমে বিদেশে থাকা তারেক ও জোবাইদার আইনি অবস্থানের বিষয়টির মীমাংসা হলো। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তির পথে যাচ্ছে।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। অপরপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।
অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলার কার্যক্রমে এর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে হাইকোর্ট। ফলে মামলা চলবে। ঢাকার সিএমএম (চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতকে আদেশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে মামলার রেকর্ড সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠাতে এবং মামলাটিকে পুরনো মামলা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছে হাইকোর্ট।
