ইজারার আগেই বসছে পশুর হাট

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ০১:৪৭ এএম

টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই দখল হয়ে গেছে কোরবানির পশুর হাট। ইজারা পাওয়ার আগেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার সাতটি হাটের দখল নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কোনো কোনো হাটে প্যান্ডেল টাঙিয়ে পশু তোলাও শুরু হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, যে টেন্ডারে পাবে, সেই নিয়ে যাবে। যে দখল করেছে, সে নাও পেতে পারে। ইজারা সম্পন্ন করতে কোনো রকম বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জের মতো একই অবস্থা ঢাকার কেরানীগঞ্জেও। এখানে সাতটি স্থানে হাটের ইজারা দেওয়ার কথা থাকলে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় হাটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। সময়ের আগেই সড়কের পাশে এসব হাটের কার্যক্রম শুরু করায় যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। কিছু কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে পশু বেচাকেনার খবরও মিলেছে।

জানা গেছে, আগামী ১০ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সেই হিসেবে ঈদের পূর্ববর্তী তিন দিনের জন্য ১৬ স্থানে হাট ইজারা দেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে এরমধ্যে ৭টি হাটের মাঠ দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। হাটের ইজারা না হলেও কোরবানির পশু তোলা হয়ে গেছে কোনো কোনোটিতে। দরপত্রে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়েও হাটগুলোর ইজারা পাবে কি না; সেই শঙ্কায় ভুগছে দরপত্রে অংশ নেওয়ায় ইচ্ছুক সাধারণ ইজারাদাররা।

নারায়ণগঞ্জ সিটির ১৬টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ৭টি ও কদমরসূল এলাকায় বসবে ৯টি পশুর হাট। তবে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৯ ওয়ার্ডে কোনো হাট দেওয়া হয়নি। করোনা মহামারীর মধ্যেও গত বছর সিটি করপোরেশন ৬টি হাট বসিয়েছিল। সিটি করপোরেশনের ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দরপত্র বিক্রয়ের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জমাদানের শেষ তারিখ ৩ জুলাই দুপুর ২টায়, সেদিনই বিকেল ৩টায় দরপত্র খোলা হবে। এরপর সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেওয়া হবে ইজারা।

এবার হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে দরপত্র আহ্বান করা হাটগুলো হলো ১নং ওয়ার্ডে সিআইখোলা বালুর মাঠ, ৩নং ওয়ার্ডে সানারপার লিথি গার্মেন্সসংলগ্ন মৌলভী মো. ফজলুর রহমানের খালি জায়গা, ৪নং ওয়ার্ডে টাইগার ওয়্যার রি-রোলিং মিলসের মাঠ, ৫নং ওয়ার্ডের ওমরপুরের সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার রোডের পাশে জালাল উদ্দিন আহম্মেদের খালি জায়গা, ৮নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ (রেললাইনের পশ্চিম অংশ), ৯নং ওয়ার্ডে জালকুড়ি উত্তরপাড়া দশপাইপসংলগ্ন মোতালিব বেপারীর বালুর মাঠ, ১৯নং ওয়ার্ডের সামিট পাওয়ার প্লান্টের পেছনে খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট, ২০নং ওয়ার্ডে সোনাকান্দা মাঠে পশ্চিম পাশের খালি জায়গা, ২১নং ওয়ার্ডে স্কুল ঘাটসংলগ্ন বালুর মাঠ, ২৩নং ওয়ার্ডে পূর্বপাড়া লতিফ হাজীর মোড়সংলগ্ন খালি জায়গা, ২৩নং ওয়ার্ডে সমরক্ষেত্র, ২৪নং ওয়ার্ডে কাইতাখালি গোলন্দাজ সাহেবের খালি জায়গা, ২৪নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ গুদারাঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা ও ২৫নং ওয়ার্ডের উত্তর লক্ষণখোলা খেয়াঘাটের পাশের খালি মাঠ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা বালুর মাঠ, ৪নং ওয়ার্ডের টাইগার ওয়্যার রি-রোলিং মিলসের মাঠ, ৫নং ওয়ার্ডের ওমরপরের মাঠ, ৮নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ, ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি উত্তরপাড়া দশপাইপসংলগ্ন মোতালিব বেপারীর বালুর মাঠ, ২০নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা মাঠের পশ্চিমের খালি জায়গা ও ২৪নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ গুদারাঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা দখল করে হাটের প্রস্তুতি নিয়েছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। এর মধ্যে ৮নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠে প্যান্ডেল টানিয়ে গরুও তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিন বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ওপেন টেন্ডার খোলা হবে, যে পাবে, সেই নিয়ে যাবে। যে দখল করেছে, সে নাও পেতে পারে। তাই ইজারা সম্পন্ন করতে কোনো রকম বিঘœ যাতে না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়া স্থানগুলো হলোখাড়াকান্দি মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট, জিনজিরা বাজারে অস্থায়ী পশুর হাট, রসুলপুর মাদ্রাসাসংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাট, আগানগর বালুর মাঠে, রাজাবাড়ী অস্থায়ী হাট, নতুন সোনাকান্দা ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের হাট এবং হাসনাবাদ বালুর মাঠের হাট। হাটগুলো ৭ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হবে। এজন্য ৩০ জুন থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ে থেকে দরপত্রের শিডিউল  সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। আর আগামী ৪ তারিখ দুপুর ১২টায় দরপত্র শিডিউল দাখিল করতে বলা হয়েছে। তবে শিডিউল সংগ্রহ, শিডিউল জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন না হলেও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি হাটের প্রস্তুতি গ্রহণ।

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, হাসনাবাদ ও ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটি পুঁতে ও প্যান্ডেল টাঙিয়ে হাট বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। জিনজিরা যানবাহন চলাচলের রাস্তায় চলছে বাঁশের খুঁটি পোতার কাজ। এতে করে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে কাদের নির্দেশে এসব করা হচ্ছে তার সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি ওইসব জায়গায় কাজ করা শ্রমিকরা। 

মো. শামীম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, হাট শুরু হতে এখনো ৪-৫ দিন বাকি আছে। এত আগে থেকে রাস্তায় খুঁটি বেঁধে রাখায় যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, পথচারীরাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। তারা প্রতি বছরই এমন করে। আসলে তারা প্রভাবশালী দেখে কেউ তাদের কিছু বলে না, আর তারা হাট নিয়েও যা ইচ্ছে তা করে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি হাটের ইজারা নিতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দীর্ঘসূত্রী হওয়ায় অনেকই ইজারাদারকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের কোনো কোনো হাটে লক্ষাধিক পশু বেচাকেনা হয়। তাই অনেক ইজারাদারই আগাম প্রস্তুতি নেয়।

এদিকে জিনজিরা ও তার আশপাশের এলাকায় ইতিমধ্যে জিনজিরা হাটের ইজারাদার হিসেবে মো. জাহিদ হোসেনের নাম সংবলিত পোস্টার বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো দেখা যাচ্ছে। সেখানে জিনজিরা হাটের তারিখ ৩ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত লেখা রয়েছে। এ বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, উপজেলার পক্ষ থেকে আমাদের ৩ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান জানান, হাটের আগে বাঁশ-খুঁটি পোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা টেন্ডার আহ্বান করেছি। আমরা একটি সঠিক প্রসেসের মধ্য দিয়ে যাব। কোনো ব্যক্তি যদি আইন অমান্য করে, শর্ত ভঙ্গ করে থাকে; তাহলে তাকে ইজারা দেব না। উল্টো তার টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত