বদলি হজ প্রসঙ্গে
আবিদুর রহমান, রাজাপুর, লক্ষ্মীপুর
প্রশ্ন : নানার ওপর আগ থেকেই হজ ফরজ ছিল। তিনি হজে যাবেন যাবেন করতে করতে দেরি হয়ে যায়। এর মধ্যে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন, যার দরুন তিনি হাঁটতে পারেন না। নানা চাচ্ছেন তাড়াতাড়ি তার হজটা যেন আদায় করা হয়। তাই এক ব্যক্তিকে তার পক্ষ থেকে বদলি হজ করার জন্য পাঠান। তিনি নানার পক্ষ থেকে হজ করে আসেন। এর প্রায় বছরখানেক পর আল্লাহর রহমতে নানা প্রায় পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন তিনি একা একা চলাফেরা করতে সক্ষম। জানার বিষয় হলো, নানা সুস্থ হওয়ার পর কি ওই হজ যথেষ্ট হবে, নাকি আবার করা লাগবে? তিনি চাচ্ছেন, আবার নিজে গিয়ে হজ করবেন। এটা কি তার ফরজ হিসেবে গণ্য হবে না নফল হিসেবে?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার নানা যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে হজ আদায় করতে সামর্থ্যবান হয়ে থাকেন তবে তিনি নিজে গিয়ে হজ আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে আদায় করা হজটি নফল বলে গণ্য হবে এবং বর্তমান হজটি ফরজ হিসেবে গণ্য হবে। আল মাবসুত, সারাখসি : ৪/১৫২
কাবা শরিফ দেখলেই হজ ফরজ হয় না
আহমাদুল্লাহ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : কোনো দরিদ্র ব্যক্তি কারও পক্ষ থেকে বদলি হজে গেল। এখন বায়তুল্লাহ দেখামাত্র নাকি তার ওপর হজ ফরজ হয়ে যায়? তদ্রুপ কেউ যদি ওমরাহে যায়, বিশেষত রমজানে, তাহলেও নাকি বায়তুল্লায় পৌঁছালেই হজ ফরজ হয়ে যায়। এ কথা কতটুকু ঠিক?
উত্তর : কাবা শরিফ দেখলে কিংবা ওমরাহ করতে গেলে হজ ফরজ হয়ে যায় এ ধারণা ঠিক নয়। কাবা শরিফ দেখা না দেখার সঙ্গে হজ ফরজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। হজ ফরজ হওয়ার জন্য সামর্থ্য থাকা শর্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের কাছে এ ঘর (কাবা শরিফ) পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে তাদের ওপর এ ঘরের হজ করা ফরজ।’ সুরা আলে ইমরান : ৯৭
তাই হজ ফরজ হওয়ার জন্য হজের মৌসুমে হজে যাওয়া-আসার খরচসহ সফরে থাকাকালীন দিনগুলোতে পরিবারের লোকদের স্বাভাবিক খরচের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এ ছাড়া বর্তমানে হজের জন্য সৌদি সরকার কর্র্তৃক অনুমতি থাকা এবং বৈধ ভিসা প্রয়োজন। ওমরাহ ভিসায় গিয়ে হজের অনুমতি থাকে না। তাই ওমরাহ করতে গিয়ে হজের জন্য থেকে যাওয়া আইনত নিষেধ। সুতরাং ওমরাহ করতে যাওয়ার কারণে হজ ফরজ হবে না। জাওয়াহিরুল ফিকহ : ১/৫০৭
