অর্থনৈতিক নানা সূচকে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলে হবে না, অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে হলে মানবিক উন্নয়নের বিষয়েও নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী ও অধ্যাপক ফাহমিদা হক কলির ওপর হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ সব কথা বলেন বক্তারা।
শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সামনে রবিবার (৩ জুলাই) এই সমাবেশের আয়োজন করে পথনাটক পরিষদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল চরিত্র। তাই রাষ্ট্রকে চেতনাগত উন্নয়নের কথা ভাবতে তবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী, অধ্যাপক ফাহমিদা হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, নাট্যকার মাসুম রেজা, ঝুনা চৌধুরী, মানজার চৌধুরী সুইট প্রমুখ।
পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস।
সেদিনের হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রতন সিদ্দিকী বলেন, বাসার গেটের সামনে রাখা মোটরসাইকেল সরাতে ড্রাইভার শুধু সামান্য শব্দে হর্ন বাজিয়েছিল। এরপর ঘটনার সূত্রপাত। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আমাদের মালাউন ও নাস্তিক আখ্যায়িত করে গালাগাল করে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বলে, আমরা নাকি বলেছি ওই মসজিদে নামাজের নামে ভণ্ডামি হয়। এ জন্য আমাকে মসজিদে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এমনকি কেউ কেউ গলায় জুতার মালা পরানোর কথাও তুলেছিল। কিন্তু আমরা মৌলবাদীদের কাছে মাথানত করিনি। আপসের পথে যাইনি। ক্ষমাও চাইনি। পরবর্তীতে রাষ্ট্র আমার পরিবারের নিরাপত্তা দিয়েছে।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, পাকিস্তান আমলের চেয়েও স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। সমাজের এ অবক্ষয় রুখতে সামাজিক শক্তিকে সংঘবদ্ধ করতে হবে।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রতন সিদ্দিকীর ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্বাধীনতার আগে এবং পরে এমন অজস্র ঘটনা ঘটেছে। তবে স্বাধীনতার আগে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। বর্তমানে নিজেদের শক্তিটা যেন হারিয়ে ফেলেছি।
মামুনুর রশীদ বলেন, প্রতিবাদহীন একটা সমাজ গড়ে উঠছে। তাই মৌলবাদকে প্রতিহত করতে হলে প্রগতিশীল মানুষের ঐক্য দরকার।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, রাষ্ট্র আমাদের হাতে থাকলেও সমাজটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। স্কুল-কলেজে সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে।
