ওপেনার লিটন দাস মনে করেন, যদি বাংলাদেশ পাওয়ার-হিটিংয়ে উন্নতি করতে না পারে তবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার মূল্য চুকাতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ হারের পর এমন বিপদের ইঙ্গিতই দিলেন তিনি।
ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে লাল বলের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর সাদা বলের সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে মাঝপথে বাতিল হয়ে যায়।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে হেসেছে কেবল লিটন ও আফিফ হোসেনের ব্যাট। গায়ানায় টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৬৩ রান করে টাইগাররা। লিটন এক রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হন। তবে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৫০ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন আফিফ।
তারপরও ক্যারিবিয়ানদের রুখতে পারেনি। শুরুতে ৩ উইকেট হারালেও পরবর্তীতে উইন্ডিজকে চেপে ধরতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। ওপেনার কাইল মেয়ার্সের ৩৮ বলে ৫৫ এবং উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক নিকোলাস পুরানের ৩৯ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের সুবাদে ১০ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা।
৫ উইকেটে ১৬৯ রান করে উইন্ডিজ। বাংলাদেশ যেখানে বাউন্ডারির জন্য হা-হুতাশ করেছে সেখানে মেয়ার্স-পুরান হাঁকিয়েছেন সমান পাঁচটি করে ছক্কা। বিপরীতে লিটন-আফিফের সমান দুই ছয়।
শুরুতে উইকেট হারানোর পরও সঙ্গে পুরান ও মেয়ার্স যেভাবে উইন্ডিজকে জয় এনে দিলেন তার জন্য দুজনকে কৃতিত্ব দিলেন লিটন। সঙ্গে প্রকাশ করলেন বোলিং ইউনিট নিয়ে উদ্বিগ্নতা।
২৭ বছর বয়সী ব্যাটার বলেন, ‘আমি মনে করি আজকের ম্যাচে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। বোলিং ইউনিট নিয়েও উদ্বিগ্নতা থাকছে। একই সঙ্গে পুরান ও মেয়ার্সকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা যেভাবে ব্যাট করেছে এবং ভালো বলে যেভাবে হিট করেছে তার জন্য। পাওয়ার ক্রিকেট খেলা তাদের জন্য প্লাস পয়েন্টের।’
এদিকে সামনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে উইন্ডিজে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার তো বটে। লিটনও মনে করেন, পাওয়ার-হিটিংয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে বিশ্বকাপে ভুগতে হবে বাংলাদেশকে।
শঙ্কা প্রকাশ করে লিটন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টির ক্ষেত্রে আমরা ভালো দলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বলব, আমরা শক্তিশালী ক্রিকেট খেলতে পারছি না। অনেকে বলেন, টি-টোয়েন্টি কৌশল এবং কৌশলের সঙ্গে দক্ষতার খেলা। তবে আমি মনে করি, পাওয়ার-হিটিং খুবই দরকারি। আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। যে মাঠে আমরা বিশ্বকাপ খেলব, সেখানে পাওয়ার হিটিং সক্ষমতা না থাকলে আমাদের ভুগতে হবে। আমরা যদি অনুশীলন করি এবং ম্যাচ খেলি তাহলে বিশ্বকাপে আস্থা পাব।’
