বাস থেকে ফেলে তরুণ হত্যা

চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স বাসের ছিল না রুট পারমিট

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ১২:৩৫ এএম

গাজীপুরে ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে তরুণ যাত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাসচালক ও তার সহকারীকে (হেলপার) আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গাজীপুরের আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে নিহত তরুণকে যে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় সেটির ওই সড়কে চলার জন্য অনুমতি (রুট পারমিট) ছিল না। এছাড়া বাসটির চালকের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। সে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নিয়ে বাসটি চালাচ্ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য জানা গেছে।

গ্রেপ্তার বাসচালকের নাম সফিকুল ইসলাম (২৬)। তার সহকারী মো. হিরা মিয়া (২৭)। সফিকুল নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের কুঠিপাড়ার আবদুর মাহমুদের ছেলে। আর হিরা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার মাগান এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার এসআই সাইদুর রহমান জানান, গত বৃহ¯পতিবার সকাল ৯টার দিকে জোড়পুকুরপাড় মোড় থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে সায়েম নামে এক তরুণ শিববাড়ী মোড়ে যাওয়ার জন্য ওঠেন। বাসে হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে সায়েমের কথাকাটাকাটি হয়। এ কারণে হেলপার সায়েমকে শিববাড়ী মোড়ে নামতে না দিয়ে তাকে চান্দনা চৌরাস্তার আরও সামনের দিকে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গেটের অদূরে এশিয়ান ফার্নিচারের দোকানের সামনে পৌঁছে সায়েমকে চলন্ত বাস থেকে সড়কের ওপর ফেলে দেয়। তখন ওই বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে সায়েম ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পুলিশ বাসটি জব্দ এবং বাসের চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত বাসযাত্রী সায়েম (২০) ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার আওলাপাড়া এলাকার আবু ছাইদের ছেলে।

গাজীপুর বিআরটিএর উপপরিচালক মো. আবু নাঈম জানান, ওই বাসটির গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে জৈনা বাজার হয়ে চান্দনা চৌরাস্তা রুটে চলাচলের জন্য রুট পারমিট রয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের রুটে চলাচলের অনুমতি ছিল না।

সায়েম নিহতের ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালকের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে লার্নার (শিক্ষানবিশ) লাইসেন্স নিয়ে বাসটি চালাচ্ছিল। এছাড়া ওই রুটে বাসটি চালানোর কোনো রুট পারমিটও ছিল না।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকওয়া পরিবহন চালুর পর থেকেই বাসের চালক-হেলপাররা বেপরোয়া। তারা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, বেশি ভাড়া আদায় করে। প্রতিবাদ করলেই লাঞ্ছিত করে। শিববাড়ী-রাজবাড়ী রুটে চলাচলের জন্য ৪০টি বাসের অনুমতি আছে, কিন্তু চলে প্রায় ২৫০টি। তাকওয়ার কারণে নগরীতে যানজট লেগে থাকে। এসব বিষয় নিয়ে এর আগে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হলেও কোনো সুফল মেলেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত