প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ভবন ছেড়ে দিতে চান শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ০১:২২ পিএম

প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দখল ছেড়ে দিতে চান শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা। দেশে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা দুই ভবন থেকে সরার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের এক নেতা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সরকারি দুই ভবনের কর্তৃত্ব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই’।

শ্রীলঙ্কায় গত চার মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বৌদ্ধ সন্ন্যাসি ওমালপে সবিথা এএফপিকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘এসব ভবন সরকারি সম্পত্তি এবং অবশ্যই এগুলো রক্ষা করা উচিত। গত কয়েকদিনে দুই ভবনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা যথাযথভাবে নিরীক্ষা করা উচিত এবং সরকারের কাছে (দুই ভবন) হস্তান্তর করা উচিৎ’।

চলতি বছরের শুরু থেকেই চরম আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় গত মার্চ মাস থেকে। শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার বড়ভাই ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।

প্রবল জনবিক্ষোভের মুখে গত মে মাসে মাহিন্দা পদত্যাগ করলেও গত ৯ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত নিজের পদ ধরে রেখেছিলেন গোতাবায়া।

তারপর ৯ জুলাই তার পদত্যাগের দাবিতে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ঘেরাও করতে মিছিল করে আসেন একদল বিক্ষোভকারী। কিন্তু গোয়েন্দা সূত্রে আগেই এই কর্মসূচির সংবাদ পেয়ে সরকারি ভবন ছেড়ে সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন গোতাবায়া।

গোতাবায়াকে না পেয়ে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তার সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েন। এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন তারা।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সামরিক বাহিনীর বিমানে প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপে পালিয়ে যান গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। তার কয়েক ঘণ্টা পর, বুধবার সকালে নিজেকে শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

রনিল বিক্রমাসিংহের এই ঘোষণার পর তার পদত্যাগের দাবিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলা করেন আরেক দল বিক্ষোভকারী। সেখানে পুলিশের সংঙ্গে সংঘাত হয় তাদের এবং এখনও সেই কার্যালয়ে তারা অবস্থান করছেন।

ওই হামলার পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। সেখানে দেশের শৃঙ্খলা ফেরাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

বুধবারের ভাষণে রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘আমরা সংবিধানকে পদদলিত করতে পারি না। কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের ক্ষমতা নিয়ে নেবে- তা আমরা হতে দিতে পারিনা। গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা প্রতিটি ফ্যাসিবাদী তৎপরতা অবশ্যই দমন করা হবে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত