ভূমি-গৃহহীনমুক্ত প্রথম জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ০১:৫৫ এএম

দেশের প্রথম জেলা হিসেবে পঞ্চগড়কে ‘ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পঞ্চগড়ে ভূমি ও গৃহহীন আরও ১ হাজার ৩১৩টি পরিবার নিজেদের বাড়ি পেতে যাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে দেশের প্রথম জেলা হিসেবে ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হতে যাচ্ছে পঞ্চগড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের যেকোনো দিন পঞ্চগড়কে শতভাগ ভূমিহীন-গৃহহীন জেলা হিসেবে ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে শেষ পর্যায়ের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপের এসব বাড়ি হস্তান্তরের মাধ্যমে জেলার মোট ৪ হাজার ৮৫০টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতক জমির মালিকানার সঙ্গে এই বাড়িতে থাকছে দুটি করে শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচাগার, বারান্দা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও নিরাপদ পানির জন্য নলকূপ।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের ২ হাজার ৪৩৪টি একক গৃহের মধ্যে প্রথম ধাপে গত ঈদুল ফিতরের আগে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ১ হাজার ২১টি একক গৃহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বাকি ১ হাজার ৩১৩টি বাড়ির নির্মাণকাজও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই এসব বাড়ি উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। এর আগে একই প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৫৭টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৩৫৯টি একক গৃহ উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মনিটরিং ও সুপারভিশনে এই জেলায় ভূমি-গৃহহীনদের পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া নির্মাণকাজের গুণগতমান বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি ও গৃহহীন মানুষ খুঁজে পাচ্ছে তাদের স্থায়ী আপন ঠিকানা। ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত সুবিধাভোগীরা। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতক জমির মালিকানার সঙ্গে আধাপাকা ঘরসহ থাকছে আনুষঙ্গিক নানা সুবিধা। পাশাপাশি এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের গয়াপানি আশ্রয়ণের বাসিন্দা মুল্লিকা আক্তার (৪৫) জানান, কখনো ভাবতেই পারেননি যে পাকা ঘরে বসবাস করতে পারবেন। আগে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতেন। স্বামী আনোয়ার হোসেন অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করেন। মুল্লিকা বলেন, ‘ভালো আছি, ছোট হলেও নিজের বাড়ি হয়েছে। মানুষের কথা শুনতে হয় না।’ নিজের স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে উপকারভোগী বাছাই করা হয়েছে জানিয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হক বলেন, ‘প্রথম পর্যায় থেকে তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত পঞ্চগড় পৌরসভাসহ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫৩৬টি উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে একক গৃহ হস্তান্তর করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৩৫৪টি একক গৃহ উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৮২টি একক গৃহের নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের মধ্যে এসব গৃহ হস্তান্তরের জন্য তৈরি হয়েছে।’

ভূমি-গৃহহীনদের মধ্যে বাড়ি হস্তান্তরের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন, গৃহহীন, আশ্রয়হীন থাকবে না। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর এ দীপ্ত ঘোষণা বাস্তবায়নে সারা দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে পঞ্চগড়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে গৃহ নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং শতভাগ বাসিন্দারা ঘরে উঠেছেন। তৃতীয় পর্যায়ের গৃহ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চলতি জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলাকে শতভাগ গৃহায়ন (ভূমি-গৃহহীনমুক্ত) জেলা হিসেবে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত