রফিক আজাদের ৮১তম জয়ন্তীতে প্রকাশ হবে ‘রচনাবলি’

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০২:৩০ পিএম

কবিতা ও জীবনের সীমানাভাঙা কবি রফিক আজাদ বাংলাভাষী পাঠকের কাছে সদা-স্মরণীয় হয়ে আছেন বহু কালজয়ী পঙ্‌ক্তির মধ্য দিয়ে। যার মাঝে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘যদি ভালোবাসা পাই আবার শুধরে নেব জীবনের সব ভুলগুলো’, ‘সুন্দর সাম্পানে চড়ে মাধবী এসেই বলে যাই’ ও ‘এই সিঁড়ি পৌঁছে গেছে বঙ্গোপসাগরে’।

বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য এ কবির সমুদয় রচনার সংকলন ‘রফিক আজাদ রচনাবলি’ শিরোনামে খণ্ডাকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। রচনাবলিতে প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতার পাশাপাশি সন্নিবেশ ঘটবে গদ্য, চিঠিপত্রের।

আগামী ভালোবাসা দিবস তথা ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কবির ৮১তম জয়ন্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রফিক আজাদ রচনাবলি’ বাজারে আসবে।

সোমবার (১৮ জুলাই) সকালে পুরানা পল্টনের ঐতিহ্য কার্যালয়ে কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। স্মৃতি পর্ষদের পক্ষে কবি-পত্নী অধ্যাপক দিলারা হাফিজ এবং ঐতিহ্যের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম  চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

বাংলা কবিতার অনন্য ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর কবি রফিক আজাদ (১৯৪৩-২০১৬)। বিগত শতকের ষাটের দশকে যে ক’জন কবি সৃষ্টির অভিনবত্বে বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন রফিক আজাদ তাদের অন্যতম।

অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, সশস্ত্র সুন্দর, মৌলভীর মন ভালো নেই-এর মতো অবিস্মরণীয় কবিতাগ্রন্থ কিংবা ‘কোনো খেদ নেই’-এর মতো অসামান্য আত্মজীবনী অথবা ‘গদ্যের গহন অরণ্যে’-এর মতো প্রবন্ধগ্রন্থ তার সৃষ্টিশীলতার স্বর্ণস্বাক্ষর। বিদেশি কবিতার বাংলা অনুবাদেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

দেশে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ রফিক আজাদ। উত্তরাধিকার, রোববার কিংবা ঘরে-বাইরে-এর মতো পত্রিকা সম্পাদনাকালে বহু তরুণ কবি-লেখকের সাহিত্যচর্চায় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত বাংলা একাডেমির ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকার ‘বুদ্ধদেব বসু সংখ্যা’ দুই বাংলায় সমানভাবে আদৃত হয়।

বাংলাদেশে রচনাবলি প্রকাশের ক্ষেত্রে মাইলফলক প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। তাদের প্রকাশিত রচনাবলির মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৩০ খণ্ড), বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১০ খণ্ড), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১০ খণ্ড), জীবনানন্দ দাশ (৬ খণ্ড), শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (৫ খণ্ড), প্রমথ চৌধুরী (৭ খণ্ড), ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (৪ খণ্ড), আল মাহমুদ (১৩ খণ্ড), রশীদ করিম (৫ খণ্ড) এবং সর্বশেষ সৈয়দ শামসুল হক (৩৫ খণ্ড) রচনাবলি। কিছুদিন আগে  ‘আফসান চৌধুরী রচনাবলি’র ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত