প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতের সেনাপ্রধানের

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ০১:০৯ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। সফররত ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পাণ্ডে গণভবনে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, তারা দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারও সে দেশের জনগণকে বার্তা পাঠিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে বলছে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ সবাই দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, আসাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল রাজ্যে অতিবৃষ্টির কারণে এটি ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার, সশস্ত্রবাহিনী ও জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরও তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

বৈঠকে ভারতের সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে তার বৈঠকের কথাও জানান।

জেনারেল মনোজ পাণ্ডে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি খুবই স্পর্শকাতর ছিল এবং এটি এমন এক ত্যাগের প্রতীক; যা নতুন প্রজন্মকে দেশকে ভালোবাসতে অনুপ্রাণিত করবে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থাপনাটি অত্যন্ত সুন্দর ছিল, যেন ইতিহাসে ভ্রমণের মতো। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সফর দুই বাহিনীর সম্পর্ক সুসংহত করতে ভূমিকা পালন করবে।

ভারতের বিজয় দিবস উদযাপনের কথা উল্লেখ করে জেনারেল পাণ্ডে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন; যা ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘প্রয়াস’ পরিচালনার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেনএটি একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান যা বহুমাত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের জন্য পরিষেবা প্রদান করে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন প্রতিবেদন পেশ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কমিটির প্রতিবেদন পেশ করেছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার কাছে ২৩৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন করে।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ‘মুজিববর্ষ’ শুরু হয়। এ উপলক্ষে জাতীয় উদযাপন কমিটির উদ্যোগে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে অনেক অনুষ্ঠান ডিজিটাল চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে এই উদযাপন অনুষ্ঠানে মানুষের সার্বিক অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোয়, আয়োজনটি একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।

নতুন প্রজন্মসহ দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করতে ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর ডিজিটাল ভিডিও ও ছবি সংবলিত প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বমানের স্মারক গ্রন্থ, সংকলনগ্রন্থ, স্যুভেনিয়র প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়াও ‘মুক্তির মহানায়ক’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ‘মুজিব চিরন্তন’ নামে ১০ দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান এবং ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’ শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। গত ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিববর্ষ সমাপ্ত হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির মিডিয়া সেন্টারের প্রতিবেদনও পেশ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত