আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে কোনো ঋণ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেছেন, যদি প্রয়োজন হয় আমরা (ঋণ) নেব। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন নেই।
বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
এক দশক বাদে বাজেট সহায়তার জন্য বাংলাদেশ আইএমএফের দ্বারস্ত হচ্ছে বলে খবর এলেও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ঋণের বিষয়ে আইএমএফ কিংবা সরকার কোনো পক্ষই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি।
মহামারি মোকাবিলা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশও যখন ভুগছে, তখন আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে মতবিনিময় করে।
আইএমএফের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যে চাঁদা পরিশোধ করে, তাতে ঋণের কোটা ১০০ কোটি ডলার। এর সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বাংলাদেশ এক বছরে ঋণ নিতে পারে।
চলমান সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশে আইএমএফের কাছ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চাইছে বলে খবরও এসেছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফেরর একটা কনসালটেটিভ কমিটি বাংলাদেশে আছে। তারা সরকারকে পরামর্শ দেন, সরকারও তাদের পরামর্শ দেয়। তারা যে আসছে, আমাদের কাছে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাবনা দেয়নি। আমরাও তাদের কোনো ফরমাল প্রস্তাবনা দিইনি।
তিনি বলেন, আমরা আইএমএফের কাছে কোনো প্রকার অর্থ নেওয়ার জন্য আবেদন করিনি। তারাও প্রস্তাব দেয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের পরামর্শগুলো সরকারের জন্য উপকারী হয়। তারা সংস্কারপন্থি কিছু প্রস্তাব দেয়। তাদের পরামর্শগুলো দেশের জন্য ভালো হয়। তাদের প্রস্তাব পেলে আমরা গ্রহণ করি।
আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিলেও দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, অনেকের আশঙ্কা যে আমরা হয়ত এমন কিছু নিয়ে নেব, কমিটমেন্ট করব বা চুক্তি করব, যেটা আমাদের দেশের উপকারে আসবে না। প্রস্তাবনা আসলে আপানারা ভালোভাবেই জানবেন। এমন কোনো প্রকল্প বা ফান্ডিংয়ে যাব না, যেটা দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হয়। নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অর্থ নেব না।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে সরকার ও আইএমএফের ভাষ্যের ফারাকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ যেভাবে হিসাব করে, আমরাও সেভাবে হিসাব করেছি।
বাংলাদেশের ঋণ পরিশোদের সক্ষমতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আইএমএফ যে পরিমাণ সহযোগিতা করেছে, তারা কি সেই পরিমাণ পায়নি? তারা বলতে পারবে না যে আমরা একদিন পরে পেমেন্ট করেছি। ঋণ দিলে তারাও নিশ্চিত থাকবে, আমরাও তাদের বার বার আশ্বস্ত করেছি যে আমাদের ঋণ দিয়ে তা কখনও আমাদের মাফ করতে হবে না।
