গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচ নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আরো কয়েকজন।
কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের কাঠামদরবোস্ত (কাগদী) রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, কাশিয়ানী থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
দুর্ঘটনায় নিহতা হলেন, কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বিজয় মৃধার ছেলে সুজর মৃধা (৩৫), নিরোদ দাসের ছেলে পরিতোষ দাস (৩০), রবিন বিশ্বাসের ছেলে অমৃত বিশ্বাস (৩৫), মহের বিশ্বাসের ছেলে হিরামন বিশ্বাস (৪৫) ও পারুলিয়া গ্রামের মালেক সিকদারে ছেলে রাজ্জাক সিকদার ( ৪০)।
এ ঘটনায় আহত তিনজন কাশিয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহেশপুর ইউনিয়নের কাঠামদরবস্ত বাজার থেকে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত কংক্রিট মিকশচার মেসিন করে কয়েকজন শ্রমিক উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় কাঠামদরবোস্ত রেল ক্রসিং পৌঁছালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জের গোবরাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচ শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরো ৩ জন। আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শী কাঠামদরবস্ত গ্রামের শামচুল হক খানের ছেলে ব্যবসায়ী হাসান খান বলেন, ঘটনার সময় তিনি রেললাইনের পাশে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন চালাচ্ছিলেন। তখন তিনি প্রথম ট্রেনের অালো দেখে তাদের কলাপাতা দিয়ে নেমে যাওয়ার জন্য সংকেত দেন। তখন ৫ জন নেমে যান।
কাশিয়ানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান বলেছেন, ১৫/১৬ জন শ্রমিক ছিলেন। নিহতদের পরিবারের দাফন কাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছে। অাহত একজনকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি . মাসুদ অালম বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ কর্তৃপক্ষের সাথে অালাপ করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি অারো বলেন, লোকবল সংকটের কারণে রেলের বিভিন্ন ক্রসিংয়ে গেট নাই। অার গেট না থাকার কারণে এখানে গেটম্যানও নাই। তবে কর্তৃপক্ষের সাথে অালাপ করে এই রুটে গেট ও গেটম্যানের ব্যবস্থা করা হবে।
