গভর্নরকে চিঠি

ঋণ শোধের সুবিধা আরও বাড়াতে চায় এফবিসিসিআই

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ০১:৪০ এএম

বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে ঋণ পরিশোধের শর্ত আরও শিথিল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এক চিঠিতে করোনা-পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বড় শিল্প ঋণের কিস্তির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও কৃষি ঋণের কিস্তির ১৫ শতাংশ জমা দিয়ে খেলাপমুক্ত থাকার সুযোগ চেয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে গভর্নরকে এ অনুরোধ জানান জসিম উদ্দিন। চিঠিতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্র্রতিক জারি করা নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেয়াদি, চলমান ও তলবি ঋণ তথা সব ঋণের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ মেয়াদ আট বছর নির্ধারণ এবং ন্যূনতম ডাউনপেমেন্টের হার সব ক্ষেত্রে ২.৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

চিঠিতে গত ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আবদুর রউফ তালুকদারকে অভিনন্দন জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে আপনি প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। গভর্নর হিসেবেও আপনি সফল হবেন। বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।’

গত ২২ জুন কভিড-১৯ পরিস্থিতি ও ইউক্রেন সংকটকে বিবেচনায় নিয়ে ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধা শর্তসাপেক্ষে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে বড় ঋণের কিস্তির ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধ করে খেলাপমুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) ও কৃষি খাতের জন্য এ শর্ত রাখা হয় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ।

বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীদের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তাদের পক্ষে এ শর্ত মেনে ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধা নিতে প্রদেয় কিস্তির ন্যূনতম পরিমাণ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে সিএমএসএমই ও কৃষি খাতের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং বড় শিল্প খাতের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণের জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছি। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি।’

গত ১৮ জুলাই জারি করা ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনসংক্রান্ত মাস্টার সার্কুলার চলমান সংকটে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে খুব সহায়ক হবে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এ সার্কুলারে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণে মেয়াদি ঋণ এবং চলমান বা তলবি ঋণের বড় ও ছোট গ্রহীতাদের জন্য আলাদা সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, সব শ্রেণির ঋণগ্রহীতার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ সবাই সমান ক্ষতিগ্রস্ত।’

ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও পুনর্গঠনে বড় ও ক্ষুদ্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির ঋণগ্রহীতার জন্য মেয়াদি, চলমান ও তলবি ঋণ সব ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ মেয়াদ আট বছর নির্ধারণের অনুরোধ জানান জসিম উদ্দিন। একই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও পুনর্গঠনে ন্যূনতম ডাউনপেমেন্টের হার বড়-ছোট সবার জন্য ২.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত