যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে যখন ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা তাণ্ডব চালাচ্ছিল তখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এমনকি সেখানে সে সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও সহকর্মীদের জীবন শঙ্কার মুখে থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কাউকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পর্যন্ত দেননি তিনি। উল্টো প্রায় ৩ ঘণ্টা টেলিভিশনে নিজের উত্তেজিত সমর্থকদের তাণ্ডবলীলা দেখে গেছেন অবলীলায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের এক শুনানিতে গত বছরের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডবের সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
ঘটনা তদন্তে ২০২১ সালের ১ জুলাই কংগ্রেসের গঠিত কমিটি শুনানিতে এসব জবানবন্দি তুলে ধরছে। এ বছরের জুন থেকে এই শুনানি শুরু হয়। অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ও নিরাপত্তাকর্মীদের ভিডিও জবানবন্দি উপস্থাপন করা হয়।
নিজের সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে অগ্রসর হতে বলা এবং তাণ্ডব শেষে তাদেরকে ‘বাড়ি যান’ বলার মধ্যবর্তী ১৮৭ মিনিট ট্রাম্প আসলে কী করছিলেন, সর্বশেষ শুনানিতে এটাই প্রাধান্য পায়।
সাক্ষীরা বলছেন, এই ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ক্যাপিটল হিলের তাণ্ডবের ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় ছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের তৎকালীন পরামর্শক প্যাট সিপোলোন কমিটিকে জানান, তার জানা মতে ক্যাপিটল হিলে হামলার পর সেখানকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট কাউকে একটি ফোনকল করেননি।
শুনানিতে ট্রাম্পের ৬ জানুয়ারির বিতর্কিত ভূমিকা তুলে ধরেছেন খোদ রিপাবলিকান দলের এক নেতা। প্যানেল সদস্য রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাডাম কিনজিনগার ৬ জানুয়ারি দেওয়া ট্রাম্পের টুইটের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই টুইটে ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে দিনটি চিরস্মরণীয় করে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কমিটির প্যানেল সদস্য ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এলাইনে লুরিয়া শুনানিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সেদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কিংবা সামরিক বাহিনী দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাউকেই কল করেননি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের কংগ্রেস ভবনের অধিবেশন বাতিল করতে হামলা করে পরাজিত ট্রাম্পের সমর্থকরা। ভবনের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় তারা। সেদিনের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ প্রাণ হারান পাঁচজন।
