বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অস্তিত্বই যেন সরকারের কাছে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য প্রতিনিয়ত ‘মিথ্যা সাজানো’ মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বিচারে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা সাজানোর জন্য পরিকল্পিত ঘটনা তৈরি করা ইত্যাদি অপকর্মই এখন সরকারের একমাত্র কর্মসূচি। আর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সরকার নির্লজ্জভাবে প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান শাসকগোষ্ঠী অনাচার আর কুর্কীতিতে দেশকে ভরিয়ে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের লুট, হরিলুট, টাকা পাচার, গুম, খুন আর মহা দুর্নীতির কাহিনী এখন মানুষের মুখে মুখে। দেশের মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়ের মানুষ জীবন ধারণের সব অবলম্বন হারিয়ে ফেলেছে। দেশে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই এখন নিম্নগামী।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের আর্থিক খাত লোপাট করাতে সরকার তার ঘনিষ্ঠদের ক্রমাগতভাবে সহযোগিতা করে এসেছে। মেগা প্রজেক্টগুলোর মেগা দুর্নীতিতে দেশকে এক অন্ধকার খাদের প্রান্তে টেনে নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশকে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে। দুঃশাসন জারি রেখেই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এ জন্য তারা বিরোধী দলকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিজেদের টিকে থাকার জন্য ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ারই হচ্ছে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত। এরা জনগণকে নিজেদের শত্রুপক্ষ ভেবে তাদের সব মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন আওয়ামী কারাগারে বন্দি। নাৎসিবাদী শাসনের বিষাক্ত ছোবলে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান নাৎসিবাদের রাজত্বে প্রত্যেকেই জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে আছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিমকে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ বিবৃতিতে জাকির হোসেন জসিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
