অনাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হওয়া বন্যায় সোনালি আঁশ পাট চাষ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছিলেন বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার পাটচাষিরা। চলতি বছরে এই তিন উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়ে থাকে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এই তিন উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো দাম পেলেও ফলন বিপর্যয়ে চাষিরা নিরাশ।
স্থানীয় পাটচাষি ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি পাটের চাষ হয়ে থাকে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এই উপজেলার বিল এলাকার পাশাপাশি চর এলাকার চাষিরা চরের উর্বর জমিতে ব্যাপকহারে পাটের আবাদ করে থাকেন। এ বছরও উপজেলায় পাট চাষ করেছেন প্রায় ৭ হাজার ১০ হেক্টর জমি। বিল এলাকার চাষিরা উচ্চফলনশীল ইরি-বোরো ধান কাটার পর পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে জাত পাট, তোষা ছাড়াও ও-৭২, ও-৯৮, ও-৯৭, ও-৫২৪, রবি, জেআর-৯ ইত্যাদি জাতের পাট চাষ করেছেন চাষিরা। বপনের পরপরই পাটগাছগুলো তরতর করে বেড়ে উঠছিল। তবে পাহাড়ি ঢলের বন্যার পানি পাটের জমিতে প্রবেশ করায় প্রায় ৬২০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এ পরিমাণ জমির পাট পুরোপুরি নষ্ট এবং আংশিক জমির পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে চাষিরা জমি থেকে পুরোদমে পাট কাটা-মাড়াই, ধোয়া-শুকানো শুরু করে দিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমি থেকে ৯ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হওয়ার কথা। সেখানে চাষিরা পাচ্ছেন ৫ থেকে ৬ মণ করে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাটচাষিরা।
