স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। গতকাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্পের আয়োজনে ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশনে আয়োজিত ‘ডব্লিউটিও এমসি-১২ : ইপ্লিকেশনস ফর গ্র্যাজুয়েটিং এলডিসিস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব শরিফা খান। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বাণিজ্যিক সংগঠন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং থিংক ট্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রিপর্যায়ের সর্বশেষ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণরত দেশসমূহের মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রয়োজন। তিনি বলেন, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা ও নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে হবে।
ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, আগামীতে সার্বিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজন হবে এবং সেই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতার উৎকর্ষ সাধন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সেমিনারটির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় গবেষণা কর্ম পরিচালনা, বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রস্তাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সঙ্গে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
