বিক্ষোভে উত্তাল শাবিপ্রবি, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ০৪:২৪ এএম

লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু করে দিনভর বুলবুল হত্যার বিচার ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়। আলাদাভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ, লোকপ্রশাসন বিভাগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বুলবুল হত্যার ঘটনায় শাবিপ্রবি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বুলবুল হত্যায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনা, প্রক্টরিয়াল বডিকে হত্যাকান্ডের দায় নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি পদত্যাগ, বুলবুলের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছাত্রী হলসংলগ্ন গাজী কালুর টিলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন বুলবুল। এ ঘটনার পর বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেমে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ওইদিনই রাত সাড়ে ১০টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করে প্রক্টর অফিসের সামনে সমাবেশে জড়ো হয়ে তিন দফা দাবি পূরণে নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়ে রাত ২টায় সেখান থেকে ফেরেন তারা। এদিকে এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা (নং-২৮) করেন।

হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৩ : শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাত ১২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে বন্ধুদের নিয়ে টিলায় বেড়াতে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে বুলবুল নিহত হন। বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বুলবুল হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ এসব তথ্য জানান।

তদন্ত কমিটি গঠন ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাস : শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীর দাফন-কাফন সম্পন্ন করার জন্য ১ লাখ টাকা প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া শিক্ষার্থীর বাড়িতে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকরা যাচ্ছেন। উনারা কথা বলে আসবেন কার কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। প্রাথমিক ৪-৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আমরা আরও কীভাবে সহায়তা করতে পারি এটা নিয়ে আলোচনা করব।’

ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর : ময়নাতদন্ত শেষে বুলবুল আহমেদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল। লাশ নিতে আসেন বুলবুলের বড় ভাই মো. জাকারিয়া। যে ভাইকে ঘিরে পরিবারের সবার স্বপ্ন সেই ভাইয়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ হস্তান্তরের আগে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাকারিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বাপ মরছে আট মাস আগে। এখন ভাই গেলো গা, আর কিছু বাকি নাই। আমরার দুটা বোন ইন্টার (উচ্চ মাধ্যমিক) পড়ছে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে পারছে না। আমি এসএসসি পরীক্ষা দেইনি। আমার ভাইরে নিয়াই আমগো স্বপ্ন আছিলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লায় আমাদের স্বপ্ন পূরণ করলো না। আমার মায় তো পাগল হইয়া যাইবো। বুলবুলের জন্য আমার বাপ সব করছে। ছোট বোনকে বিয়ে দিতে পারিনি। এলাকাবাসী বলতো বুলবুল এলাকার নাম করবে। সব স্বপ্ন শ্যাষ ভাই। আমরা মানুষের কী ক্ষতি করছি, যে আমার ভাইরে নিলো। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।’

বুলবুলের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার নন্দীপাড়া গ্রামে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত