হাটহাজারী কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ০৪:৩৯ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।

বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ নূর হোসেন শাওন, তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ২০২২০২৪৫২৭৮। ডিগ্রি পাস-এর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ মাসুদ রানা, তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ১৯১০২১৬৫৫২৯।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয়, সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। কেন তাদের স্থায়ীভাবে ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে না- এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে ওই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখার জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা চর্চা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে কাউন্সেলিং করানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

দুই দিনের রিমান্ডে ৫ শিক্ষার্থী : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌননিপীড়নের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার আসামিদের দুদিন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় দায়িত্বরত পরিদর্শক জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, এ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাটহাজারী থানা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিল। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ ২য় বর্ষের ছাত্র মো. আজিম (২৩), নৃবিজ্ঞান বিভাগ ২য় বর্ষের ছাত্র মো. নুরুল আবছার বাবু (২২), হাটহাজারী কলেজের মো. মাসুদ রানা (২২), নুর হোসেন শাওন (২২) ও সাইফুল ইসলাম (২১)।

র‌্যাব জানায়, গত ১৭ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ক্যাম্পাসে যৌননিপীড়নের শিকার হন। মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েক যুবক ছাত্রীর সঙ্গে থাকা তার বন্ধুকে আটকে রেখে তাকে যৌননিপীড়নের পর বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনায় ২০ জুলাই ওই ছাত্রী বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। পরে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। পরে শুক্রবার রাতে র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা ও রাউজান থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সময় অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, আজিম ঘটনার মূল নেতৃত্বদাতা এবং চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী। আজিমের বাবা আমির হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্টাফ কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। বাকি চারজনের বাবাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী এবং ক্যাম্পাসে পরিবার নিয়ে থাকেন। গ্রেপ্তারের পর মূল হোতা আজিম ও বাবুকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত