ফুটপাতে কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০২:৩৯ এএম

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মতো পদক্ষেপে গেলেও নারায়ণগঞ্জ নগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে যেন বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব চলছে। নগরীর ফুটপাত ও সড়কের অস্থায়ী ছোট ছোট দোকানে প্রতিদিন শত শত অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এতে সরকার যেমন একদিকে হারাচ্ছে রাজস্ব, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে বৈধ গ্রাহকরা। নগরীতে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) মাঝেমধ্যে অবৈধ সংযোগ অপসারণে অভিযান চালালেও দ্রুতই আগের চেয়ে বেশি টাকার বিনিময়ে ফের সংযোগ নিয়ে থাকে বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িতরা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়ক, শায়েস্তা খাঁ সড়ক, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ও নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের ফুটপাতগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সংখ্যা বেশি। রাস্তাগুলোর দুপাশে কয়েক শ ভাসমান দোকানে সরাসরি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার হচ্ছে দোকানগুলোতে। এ জন্য প্রতিদিন বাতিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৫০ টাকা (বাতির ওয়াট অনুযায়ী টাকা কম-বেশি)। ফুটপাতের কমপক্ষে পাঁচশ দোকানে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। সে হিসাবে বাতিপ্রতি গড়ে ৩০ টাকা ধরলে ৫০০ দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করছে চক্রের সদস্যরা। আর মাসে আদায় করা টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় কমপক্ষে সাড়ে চার লাখ টাকা, বছরে তা অর্ধকোটি টাকার বেশি।

যদিও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে পুরো দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও দোকানপাট, মার্কেট রাত ৮টার পর বন্ধ রাখাসহ একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। দোকানপাট ও মার্কেট নির্ধারিত সময়ের পরে বন্ধ হয়ে গেলেও সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত কারবার চালাচ্ছে ফুটপাতের দোকানগুলো। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পালনে নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরীর বাসিন্দারা। কারণ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চোখের সামনেই চলছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের ‘উৎসব’।

নগরীর ফুটপাতের ভাসমান দোকান মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সড়কগুলোর  দায়িত্বে রয়েছে আলাদা আলাদা লোক। যেমন ২ নম্বর রেলগেটে রুবেল নামে এক যুবক ও তার লোকজন অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের টাকা তোলে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাগনে এই রুবেল। একইভাবে অন্য সড়কগুলোতেও টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা লোকজন। আর এদের সহায়তা করছে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে বিভিন্ন সময় অভিযানে অপসারণ হলেও পরদিনই আবার অবৈধ সংযোগ চালু হয়ে যায়। আবার অনেক সময় আগে থেকে অভিযানের খবর পেয়ে দোকান বন্ধ করে চলে যান মালিকরা। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে সড়কের পাশের দোকানপাট।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ব) গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসেই নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকি। অভিযানে অবৈধ সংযোগ পেলে জরিমানা করে সংযোগ কেটে দিই।’

আর নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামাল হোসেন অবৈধ সংযোগের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা মাসখানেক আগেও ফুটপাতে ও সড়কের চারপাশে অভিযান চালিয়েছি। অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়ায় সড়কের অস্থায়ী হকারদের জরিমানা করেছি। তাদের মধ্যে অনেকে বৈধভাবে মিটার নিতে চায়, কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে তাদের ব্যবসায়িক কোনো লাইসেন্স নেই। ফলে তাদের আমরা বৈদ্যুতিক মিটার দিতে পারি না। তবে শিগগিরই অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে আবার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত