একটি বিতর্কহীন কমিটি গঠনে অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শিগগিরই তারা পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করবেন। এর আগে কমিটিতে জায়গা পেতে যারা তৎপর তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না তা জানতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। এ বাক্সে গোপনীয়ভাবে সম্ভাব্য নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে। কারও নাম প্রকাশ করা হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর নয়া পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদল এ অভিযোগ বাক্স স্থাপন করে। অভিযোগ দেওয়া যাবে আজ ৩০ জুলাই পর্যন্ত। এছাড়া সরাসরি অভিযোগ দেওয়া যাবে। শেষ দিনে অভিযোগ বাক্স খোলা হবে। এরপর যেসব অভিযোগ পাওয়া যাবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। পদ-পদবি পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও জমা দিতে হবে। ছাত্রদলের নেতারা জানান, তারা চান কমিটিতে শিক্ষিত ও যোগ্য নেতা আসুক।
নতুন কমিটি গঠনে এ ধরনের কর্মকা-ের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত দিনে দেখা গেছে, কমিটি ঘোষণার পর বঞ্চিতরা অথবা প্রতিদ্বন্দ্বীরা কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তোলেন। গণমাধ্যমের কাছে গোপনে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। তখন কমিটির শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়-দায়িত্ব আমাদের ঘাড়ে আসে। সংগঠনের বদনাম হয়। এ থেকে মুক্তি পেতে আগেভাগেই তথ্য-উপাত্ত চাচ্ছি আমরা যাতে কমিটি ঘোষণার পর কেউ কোনো অভিযোগ করতে না পারে।’
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিটি গঠনে আমরা এবার ভিন্ন কৌশল নিচ্ছি। মূলত বিতর্ক এড়াতে আমাদের এ কৌশল। ঢাউস কমিটি নয়, আমরা চাই ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করতে। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন এমন নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করার ইচ্ছা আছে আমাদের। যাদের আমরা পাব না তাদের আমরা কমিটিতে রাখব না। আমরা আশা করি বিএনপির নেতারা আমাদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।’
ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যথাক্রমে ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামল নির্বাচিত হয়েছিলেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত দুই বছর মেয়াদ শেষ হলেও তারা কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। তাই এবার শ্রাবণ ও জুয়েলকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রদলের অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্তমান কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ এপ্রিল ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনের গঠন-পুনর্গঠন বিষয়ে যাবতীয় ক্ষমতা সংগঠনের অভিভাবকের কাছে অর্পণ করেন। তিনি ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আংশিক কমিটি মনোনীত করেছেন।
নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।
যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন তারেক রহমান। এরপর যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। যুবদলের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিটি গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুন হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে আমাদের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু সৌদি আরবে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করব। আশা করছি শিগগিরই আমরা কমিটি ঘোষণা করতে পারব।’
এর আগে সাইফুল আলম নিরব ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু যুবদলের দায়িত্বে থাকলেও তারা তাদের মেয়াদকালে কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। এ নিয়ে যুবদলের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পদহীন সাবেক ছাত্রদল নেতারা নিয়মিত কার্যালয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থানরত যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু গতকাল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩১ জুলাই দেশে ফিরব। এরপর কমিটি গঠনের কাজ শুরু করব। দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার ইচ্ছা আমাদের আছে।’
