আর্থিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডধারীদেরকে টার্গেট করে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। এ পর্যন্ত তারা প্রায় এক কোটিরও বেশি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছিল।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় এলআইসির একটি চৌকস দল এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে সনাক্ত করে চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদ। তিনি ফরিদপুরের ভাংগা থানার ব্রাহ্মন্দী গ্রামের মো. ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। সিআইডির চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, তার নেতৃত্বে ৩/৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র মোবাইলে আর্থিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদেরকে বিকাশ/নগদ/রকেটের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রায় ৫/৬ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিল।
সিআইডি জানায়, চক্রের সদস্যরা 'বিকাশ/নগদ/রকেটের কর্মকর্তা' পরিচয়ে প্রতারণার কাজটি তারা বিভিন্ন ধাপে অত্যন্ত সুনিপুনভাবে করে থাকে।
প্রথম ধাপে, প্রতারক বিকাশ কর্মকর্তা হিসেবে ভিকটিমকে ফোন দিয়ে অ্যাকাউন্ট’ আপডেট করার জন্য বলে আর অ্যাকাউন্টটি আপডেট না করলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানায়।
দ্বিতীয় ধাপে, প্রতারক ভিকটিমের ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্টটিতে ভুল পাসওয়ার্ড ৩ বারের অধিক দিলে ভিকটিমের অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সাসপেন্ড’ হয়ে যায়।
তৃতীয় ধাপে, প্রতারক ভিকটিমকে জানায় তার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং একাউন্টে থাকা টাকা ব্লক হয়ে গিয়েছে। এই ব্লককৃত টাকা ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড এ ট্রান্সফার করা সম্ভব।
চতুর্থ ধাপে, প্রতারক ভিকটিমের ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড এর কার্ড নম্বর এবং সিভিএন জানতে চায়।
পঞ্চম ধাপে, ভিকটিম উক্ত তথ্য সরবরাহ করলে ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড গ্রহণের সময় ভিকটিম সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে যে মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে সেই মোবাইল নম্বরে একটা ওটিপি কোড সম্বলিত একটি ম্যাসেজ যায়।
ষষ্ঠ ধাপে, ভিকটিম ম্যাসেজটি রিসিভ করার পর সেই কোডটি প্রতারক জানতে চায়। কোডটি প্রতারক ভিকটিমের কাছ থেকে পাওয়ার পর ভিকটিমের ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্রেডিট প্রতারক তার নিজের বিকাশ এ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে। ভিক্টিমের নিকট হতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পর পরই তারা তাদের ব্যবহৃত সকল আইডেন্টিটি গোপন করে রাখে।
