অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ১১:৩৩ পিএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই দেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসের জন্য রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এ আয় তার চেয়েও বেশি। মূলত তৈরি পোশাকে ভর করে রপ্তানি আয়ে এমন প্রবৃদ্ধি এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের জন্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল ৩৯২ কোটি ডলার। আর আয় এসেছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ডলার বেশি। তবে আগের মাস জুনের থেকে জুলাইতে রপ্তানি আয় প্রায় ৯৩ কোটি ডলার কমেছে। জুন মাসে দেশে পণ্য রপ্তানি বাণিজ্য থেকে আয় এসেছিল ৪৯১ কোটি ডলার।

ইপিবির প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুলাই মাসে যে রপ্তানি আয় হয়েছে তার ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশই তৈরি পোশাক থেকে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। তবে আগের মাস জুনের চেয়ে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় কমেছে ৭২ কোটি ডলারেরও বেশি। দেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রপ্তানি আয় কমেছে বলে রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তাতে পুরো বিশে^র প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এতে সেসব দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। সেখানকার মানুষকে খাদ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে, পোশাক কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে রপ্তানি আদেশও কমতে শুরু করেছে।

দেশের রপ্তানি আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি আসে ইইউ ও যুক্তরাজ্য থেকে। এছাড়া এককভাবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি আয় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

গতকাল মঙ্গলবার ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যার মধ্যে ১৮৫ কোটি ৪১ লাখ ডলার এসেছে নিট পোশাক থেকে। এটি আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে ওভেন পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫১ কোটি ২৭ লাখ ডলার, যা গত বছর জুলাইয়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। সদ্য শেষ হওয়া মাসে তৈরি পোশাকে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ কোটি ডলার বেশি আয় হয়েছে। এ সময় হোম টেক্সটাইল ও বিশেষায়িত টেক্সটাইলেও রপ্তানি আয় বেড়েছে।

জুলাই মাসে তৈরি পোশাকে রপ্তানি আয় বাড়লেও বড় ধাক্কা খেয়েছে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত এবং কেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিতে। এ সময় কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। এ খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ে ছিল ৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার। আর চলতি জুলাইয়ে কেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ডলার। এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩৬ শতাংশের বেশি।

চলতি জুলাইতে প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। এ সময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে সংকটে থাকা পাট পণ্যের রপ্তানি আয় চলতি অর্থবছরের শুরুতে সামান্য বেড়েছে। আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতেও ভালো করেছে বাংলাদেশ। চলতি জুলাইয়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত