দিনের বেলায় হাসপাতালে রাতের অন্ধকার!

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ০২:৩৯ পিএম

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ৪ লাখ জনগণের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে নেই জেনারেটর বা আইপিএসের সুব্যবস্থা। ফলস্বরূপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের বেলায় রাতের অন্ধকার। মোবাইলের টর্চ লাইটের আলোয় যেন ভরসা। এতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের ভিতরে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর প্রচুর ভীড়, তবে বিদ্যুৎ নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটছেন রোগীরা। একজনের চেহারা আরেক জনের দেখার উপায় নেই। গরমে পুরোই হাঁসপাস অবস্থা। একটু এগুলেই টিকেট কাউন্টার মোবাইলের আলোতে টিকেট দিচ্ছেন একজন। তাকে জিজ্ঞেস করলাম অন্ধকারে বসে আছেন কি করে? তিনি জানালেন হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা নাই। লোডশেডিং হলেই রোগীদের পাশাপাশি আমাদেরও এ রকম কষ্ট করতে হয়। দেখেন ঘেমে একাকার হয়ে গেছি। পাশেই ডাক্তারদের রুম। তাদেরও একই অবস্থা। 

মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে দেখছেন রোগী। হাসপাতালের পুরুষ, নারী ওয়ার্ডের অবস্থা আরও খারাপ। দেশে চলছে লোডশেডিংয়ের শিডিউল। একঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও লোডশেডিং হচ্ছে ৮/৯ ঘণ্টা। এতে ভর্তি হওয়া রোগীদের চরম কষ্টে পার করতে হচ্ছে সময়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভ্যাপসা গরমে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ডেলিভারি ওয়ার্ডে আইপিএস থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। 

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া একাধিক রোগী বলেন, সারা দিনে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ যায়। আমাদের এই গরমে অনেক সমস্যা হয়। দিনের বেলা কষ্ট করে থাকলেও রাতে বেশি সমস্যা। হাসপাতালে কোনও জেনারেটর নেই। রাতে কারেন্ট চলে গেলে পুরোই অন্ধকার হয়ে যায়। চিকিৎসা নিতে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি আমরা।

পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া ফিরোজ রশিদ বলেন, আমি হাই প্রেসার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। কিন্তু হাসপাতালে বেশির ভাগ সময় কারেন্ট থাকে না। এখানে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নাই। গরমে আমার প্রেসার আরও বেড়ে যাচ্ছে। বার বার মাথায় পানি দিতে হচ্ছে। হাসপাতালে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের আত্মীয়-স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের মতো এমন একটি জায়গায় সারাদিন-রাত কারেন্ট থাকে না। কারেন্ট চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আসে না। রোগীদের জন্য বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেই। দিনের বেলা পাখা দিয়ে বাতাস দিয়ে কোন রকম চলা যায়। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে যায়।

হাসপাতালে কর্মরত একাধিক নার্স বলেন, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকা দরকার। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে রোগীদের অনেক সমস্যা হয়। আমাদের নার্স রুমে কোন জেনারেটর বা আইপিএসের ব্যবস্থা নেই। রোগীদের পাশাপাশি আমাদের ডিউটি করতেও অনেক সমস্যা হয়। রাতে ডিউটি করতে বেশি কষ্ট। মোবাইলের লাইটের ওপর ভরসা ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য ওপর মহলকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। হাসপাতালে একটি জেনারেটর ছিল তাও অনেক দিন যাবৎ নষ্ট। জেনারেটরের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন দুইটি আইপিএস আছে একটি আমার অফিসে, আরেকটি লেবার ওয়ার্ডে। 

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ অফিস লোডশেডিংয়ের জন্য শিডিউল দিয়েছে, কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। আমাদের হাসপাতালের লাইনটি আলাদা করার জন্য বিদ্যুৎ অফিসকে অনেকবার জানিয়েছি। হাসপাতালে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকা জরুরি।

ত্রিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী হাসনাত আহমদ জিয়াদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরবিচ্ছিন্ন লাইনের জন্য আমাদের আলাদা কোনও ব্যবস্থার নির্দেশনা নেই। সাধারণ লাইনের মত একই লাইন হাসপাতালের জন্যও। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের জন্য আমাদের আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা আছে। ওই এলাকাগুলো লোডশেডিংয়ের আওতাভুক্ত নয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত