চীনের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের পর তাইওয়ানে কোনও সৈন্য অথবা প্রশাসক না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চীন। কয়েক দশক আগের সেই পুরোনো প্রতিশ্রুতি এবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে চীন। বুধবার দেশটির সরকারি এক শ্বেতপত্রে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে তাইওয়ান বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সিদ্ধান্তে এখন তা কমিয়ে ফেলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের প্রতিবাদে স্ব-শাসিত তাইওয়ানের চারপাশে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। এই ভূখণ্ডে বিদেশি রাজনীতিকদের সফর নিয়ে চীন বরাবরই কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং। তবে চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান সরকার বলেছে, দেশের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন। একই সঙ্গে নিজেদের গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতিও করেছে তাইওয়ান সরকার।
১৯৯৩ ও ২০০০ সালে তাইওয়ান নিয়ে আগের দুটি শ্বেতপত্রে চীন বলেছিল, পুনরেকত্রীকরণের পর ‘তাইওয়ানে সেনা অথবা প্রশাসনিক কর্মী পাঠাবে না’ বেইজিং। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হওয়ার পর ওই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাইওয়ানকে স্বায়ত্তশাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সেই শ্বেতপত্রে। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত শ্বেতপত্রে এসব প্রতিশ্রুতির কোনও উল্লেখই করা হয়নি।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি প্রস্তাব করেছিল তাইওয়ান ‘এক দেশ, দুই নীতি’ মডেলের আওতায় চীনের শাসনে ফিরতে পারে। একই ধরনের প্রস্তাব মেনে ১৯৯৭ সালে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং চীনা শাসনের অধীনে ফিরেছিল।
ওই প্রস্তাবে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা আংশিক রক্ষণাবেক্ষণে কিছু স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
১৯৪৯ সাল থেকে চীনের আগ্রাসনের হুমকির মাঝেই গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত হয়ে আসছে তাইওয়ান। সেই সময় চীনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং তৎকালীন নেতা চিয়াং কাই-শেকের সৈন্যরা মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্ট সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে এই দ্বীপ ভূখণ্ডে পালিয়ে যান।
