স্কুলগেট ভেঙে মায়ের সামনে প্রাণ গেল শিশুর

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ০২:০৪ এএম

খাগড়াছড়ি সদরে মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় প্রধান ফটক ভেঙে পড়ে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় খবংপুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রাবণ দেওয়ান (৬) ওই বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। খাগড়াছড়ি পৌর শহরের নারানখাইয়া এলাকার বাসিন্দা প্রণয় দেওয়ানের ছেলে শ্রাবণ।

এদিকে বছরখানেক আগে তৈরি করা ফটকটি নির্মাণকাজের ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফটকটি নড়বড়ে হওয়ায় কাঠ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বছরখানেক আগে ফটকটি তৈরি করে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে ঢুকছিল শ্রাবণ দেওয়ান। এ সময় হঠাৎ বিদ্যালয়ের লোহার তৈরি প্রধান ফটকটির পাল্লার একাংশ ভেঙে তার শরীরের ওপর পড়ে। এতে মারাত্মকভাবে জখম হয় শ্রাবণ। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াছমিন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমা এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য নিলোৎপল খীসা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ফটক ভেঙে পড়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

নিহত শ্রাবণ দেওয়ানের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আরিফুর রহমান।

শিশু শ্রাবণের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নারানখাইয়া এলাকার বাসায় নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের মাতম শুরু হয়। মা বাসনা চাকমা একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

বিদ্যালয়ের ফটক নির্মাণকাজে ত্রুটির কারণে সেটি ভেঙে শ্রাবণের শরীরের ওপর পড়ে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করে বলেন, ফটকটি নড়বড়ে হওয়ায় কাঠ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছিল। মূলত নির্মাণত্রুটির কারণে তা ভেঙে পড়ে। ফটকটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ ও এলজিইডি এর দায় এড়াতে পারে না বলেও মনে করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে নিহত শ্রাবণের বাবা প্রণয় দেওয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দ্রুত বিদ্যালয়ের গেট ভালোভাবে ঠিক করা হোক। আরও যেসব বিদ্যালয়ে এ ধরনের দেয়াল ও গেট নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোও সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হোক। যাতে আমার ছেলের মতো আর কাউকে জীবন দিতে না হয়। কোনো বাবা-মা যেন এভাবে সন্তানহারা না হয়।’

তবে ফটক নির্মাণকাজে গাফিলতির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বা এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত