চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

একাধিক সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় খুন করেন স্বামী

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৬:০১ এএম

রাজধানীর পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেল থেকে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার (২৭) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের মুরাদপুরের একটি ছাত্রাবাস থেকে রেজাকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলেছে, একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে খুন করেছেন রেজা।

হত্যাকাণ্ডের সময় তার পরনে থাকা গেঞ্জিতে রক্ত লেগেছিল। সেই রক্তমাখা গেঞ্জি, মোবাইল ফোনসেট, ব্যাগ ও জান্নাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, জান্নাতুল ও রেজা তাদের পরিবারের অগোচরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জান্নাতুল জানতে পারেন তার স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। গত বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষ থেকে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার ক্ষতবিক্ষত গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জান্নাতুলের বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার সঙ্গে পরিচয় হয় রেজার। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের অক্টোবরে পরিবারের অগোচরে বিয়েও করেন তারা। পরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতেন তারা। বিয়ের পরও রেজার একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি স্ত্রী জান্নাতুল জেনে যাওয়ায় বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও বাগ্বিতণ্ডা হতো। বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে জান্নাতুল নাঈম স্বামী রেজাকে কাউন্সেলিং ও আলাপচারিতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় বাগ্বিতণ্ডার কারণে স্ত্রীকে প্রতিবন্ধক ভাবতে শুরু করেন রেজা। স্ত্রীকে চিরজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কয়েক দিন ধরেই স্ত্রীকে হত্যার জন্য কাঁধের ব্যাগে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছিলেন রেজা। ১২ আগস্ট (গতকাল) জান্নাতুলের জন্মদিন ছিল। ঘটা করে তার জন্মদিন পালনের কথা বলে গত বুধবার পান্থপথের সেই আবাসিক হোটেল নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে রেজার সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এ সময়  রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো ছুরি বের করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গলা কেটে জান্নাতুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর গোসল করে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে চট্টগ্রামে যান রেজা।

রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে খন্দকার মঈন জানান,  হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে মালিবাগে নিজ বাসায় যান তিনি। বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে একটি হাসপাতালে গিয়ে তার নিজের হাতের ক্ষতস্থান সেলাই করান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে চট্টগ্রামে গিয়ে মুরাদপুরে আত্মগোপন করেন। এছাড়া তিনি কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড  থেকে বাঁচতে পারেন সেজন্য একজন আইনজীবীর সঙ্গে  যোগাযোগও করেন। এর মধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন রেজা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেজা। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রেজার বিষয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তিনি ঢাকার একটি  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। এমবিএ চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে যোগদান করেন। চলতি বছরের জুন মাসে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত