বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র উন্মোচনে তদন্ত কমিশন দরকার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ১০:২৯ পিএম

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের প্রাক্কালে তিনি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবার হত্যাকান্ড এবং

নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিনদেশ রূপান্তর : আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পনেরোই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কীভাবে স্মরণ করেন? কোন ভাবনাগুলো সামনে আসে?     

ড. আরেফিন সিদ্দিক : আমার এখনো মনে হয়, পনেরোই আগস্ট উনিশ শ’ পঁচাত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অভিশপ্ত একটি দিন। সেদিন প্রত্যুষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ তাদের তিন ছেলে, বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়-পরিজন, নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও বেশ কয়েকজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রথমেই তাদের সবার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করলেই প্রথমে যে ভাবনাগুলো সামনে আসে সেটা হলো, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। এই খুনি চক্র অনেক আগে থেকেই ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। এরপর একসময় এদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে ঠিকই কিন্তু এই হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সবার মুখোশ এখনো উন্মোচন করা যায়নি। পনেরোই আগস্টে কেবল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাই করা হয়নি, স্বাধীন বাংলাদেশের গতিপথ পাল্টে দিয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। আমরা জানি, এরপর প্রায় ২১ বছর হত্যাকারী আর তাদের দোসররাই দেশ চালিয়েছে। ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পরে যে ইনডেমনিটি আইন করা হয়েছিল সেটিকে বাতিল করলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করা হলো। কিন্তু এখনো একটা আকাক্সক্ষা আমাদের মাঝে অপূর্ণ আছে, এই যে ষড়যন্ত্রের জাল যেটা বিস্তার করা হয়েছিল, সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা কারা, কীভাবে জড়িত ছিল সেসব উন্মোচন করা যায়নি।

দেশ রূপান্তর : আপনি বলছিলেন এই ষড়যন্ত্র অনেক আগে থেকেই চলছিল। সেই ষড়যন্ত্র উন্মোচনে এখন কী করণীয় বলে মনে করেন?

ড. আরেফিন সিদ্দিক : পনেরোই আগস্ট উনিশ শ’ পঁচাত্তর হঠাৎ করে আসেনি। এই ষড়যন্ত্র বহুদিন ধরেই চলছিল। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ যখন বঙ্গবন্ধু কারামুক্ত হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন তখনই তিনি সেকালের রেসকোর্স বা আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেছে ঠিকই কিন্তু তাদের দোসররা এদেশে আছে এবং তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে।

এরপর বঙ্গবন্ধু ১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি নৌবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই ডিসেম্বরের শীতের দিনেও আপনাদের আমি গরম কাপড় দিতে পারি না কিন্তু তারপরও এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাহাজগুলোকে মেরামত করে আপনারা আমাদের নৌ-সীমানা পাহাড়া দিচ্ছেন, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এভাবে তিনি সেখানে নৌবাহিনীর সদস্যদের সামনে দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, আপনারা সতর্ক থাকবেন, বাঙালিদের মধ্যেই একটা গোষ্ঠী আছে তারা দেশকে ক্ষতি করার জন্য বিদেশ থেকে মানুষ আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসবে, নিয়ে আসে। আমরা দেখেছি, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুকে বারবার বিভিন্ন উৎস থেকে এই সতর্কবাণীও দেওয়া হচ্ছিল যে, আপনার জীবনের কিছু ঝুঁকি আছে, আপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ভারতের ‘রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইয়িংস’ যেটা ‘র’ নামে পরিচিত, সেই ‘র’-এর প্রধানকেও একবার ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকে এই সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর হৃদয় ছিল পাহাড়সমান উদার, তিনি কখনো মানুষকে অবিশ্বাস করতেন না, বিশেষ করে বাঙালিদের তো তিনি কখনোই অবিশ্বাস করেননি। যার জন্য তিনি বারবার বলেছেন আমি মানুষকে ভালোবাসি এবং আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে আমি মানুষকে বেশি ভালোবাসি। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে একটা সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছিলেন। আমার কেন যেন মনে হয় বঙ্গবন্ধু নিজেও বুঝতেন এই বেশি ভালোবাসা, এটা হয়তো একসময় ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু তিনি তো জাতির জনক। জাতির জনক হিসেবে জাতির কোন সন্তানকে অবিশ্বাস করবেন। তিনি অবিশ্বাস করতে পারেননি। তার এই উদারতা, তার এই বিশালতার জন্য একটা পর্যায়ে জীবন দিতে হলো সপরিবারে। তিনি যখন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন ৩২ নম্বরে তখনো তার চেহারায় নিরুদ্বেগ, নিরুদ্বিগ্ন একটা ভাব। তিনি হত্যাকারীদের জিজ্ঞেস করছেন, তোরা কী চাস। এবং তখনই তারা গুলি দিয়ে তার জবাব দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। তিনি সবসময় বলতেন দেশের জন্য আমার শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দিয়ে যাব। শাব্দিক অর্থেই তিনি দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে কারা কারা ছিলেন, কারা তাদের সহায়তা করেছিলেন তাদের সবার মুখোশ উন্মোচন করে জাতির সামনে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। এজন্য বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্র উন্মোচন করতে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিশন গঠন করা দরকার।

দেশ রূপান্তর : আপনি বলছিলেন পনেরোই আগস্টে স্বাধীন বাংলাদেশের গতিপথ পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তো আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সামনে এগিয়ে চলেছে। এই ঘুরে দাঁড়ানোটা কীভাবে সম্ভব হলো?

ড. আরেফিন সিদ্দিক : এজন্য অনেক সময় লেগেছে। দেশের মানুষকে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ ছয় বছর দেশেই ফিরতে পারেননি। দেশে ফিরে এসে তিনি তার পৈতৃক বাড়ি ৩২ নম্বরের বাসভবনে ঢুকবেন, সেই অধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত ছিলেন। তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অতএব বোঝা যায় হত্যাকারীদের যে প্রশাসন, অপশাসন বলি আমরা যেটাকে, সেই অপশাসন কীভাবে চলেছে।

আমার আজও মনে পড়ে সেই দিনের কথা, সেদিন শেখ হাসিনা যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তার কথা। ১৯৮১ সালের ১৭মে’র বৃষ্টিস্নাত অপরাহ্নে ঢাকায় অবতরণ করেছিলেন তিনি, দিল্লি থেকে এলেন, দিল্লিতে তিনি প্রবাস জীবনযাপনে ছিলেন। এসে তিনি বললেন, আমি এই দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে এসেছি, আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার জন্য আসিনি। আমি এসেছি আপনাদের এই সেনাশাসন, স্বৈরশাসন এসব থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। গণতন্ত্রের পথে আপনাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য। এক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করলেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন। এবং তারপর থেকে আমরা দেখলাম ক্রমান্বয়ে... ইনডেমনিটি আইনটি বাতিল করা হলো, বঙ্গবন্ধুকে যারা মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে তাদের বিচার করা হলো। হত্যাকারীদের বিচারের রায় ঘোষিত হওয়ার পর কিছু হত্যাকারীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, কিছু হত্যাকারীর রায় কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু আরও কিছু হত্যাকারী, তারা এখনো বিভিন্ন দেশে রয়ে গেছে। তাদের নিয়ে এসে শাস্তি দেওয়াটা, তাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় কার্যকর করা যায়নি।

দেশ রূপান্তর : বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার প্রসঙ্গে আরও শুনতে চাচ্ছি।

ড. আরেফিন সিদ্দিক : এখানে একটা বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার যে, একটা দেশের জাতির জনককে হত্যা করা, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে হত্যা করা কিন্তু একজন সাধারণ ব্যক্তিকে হত্যা করার মতো নয়। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাটাই কিন্তু ভেঙে পড়েছিল। একজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করার বিচার যে প্রক্রিয়ায় হয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের ক্ষেত্রেও কিন্তু সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করেছেন শেখ হাসিনা। এই যে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করা, বিচারটাকে দ্রুত করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া, সেসব কিছুই করা হয়নি। এজন্যই অনেক সময় লেগেছে। এবং এই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্যও নানা রকম অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি, ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন এই পুরো বিচার প্রক্রিয়াটা কিন্তু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে যাই হোক, আমরা শেষ পর্যন্ত হত্যাকারীদের বিচারটা দেখেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু থেমে যায়নি। যারা বিভিন্ন পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আগে, হত্যাকান্ডের সময় এবং হত্যাকান্ডের পরেও একটা দীর্ঘসময়, এখনো যে সেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে তা বোঝা যায়। কারণ ৭৫ এর ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ৩২ নম্বরে ছিলেন না বলে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনাসহ আবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার জন্য এদেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল, চক্রান্ত করা হয়েছিল এবং সেই চক্রান্তে আওয়ামী লীগের নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৬ জন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এতে আমরা বুঝতে পারি যে সেই ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো চলছে। 

দেশ রূপান্তর : বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আপনি যে কমিশন গঠন করার কথা বলছিলেন সেটা কীভাবে হতে পারে?

ড. আরেফিন সিদ্দিক : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেহেতু এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগেরই দায়িত্ব হবে পনেরোই আগস্টের হত্যাকা-ের যে ষড়যন্ত্র হয়েছে, সেই ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য একটা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করা। এই তদন্ত কমিশন গঠন অত্যন্ত জরুরি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স¦ার্থেই। এটা বাংলার সাড়ে ষোলো কোটি মানুষের প্রত্যেকের দাবি। সেটা সম্ভব হলে সেই ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করা যাবে, সেই ব্যক্তিগুলোকে চিহ্নিত করা যাবে, যে প্রক্রিয়ায় এসব হয়েছে সেটা চিহ্নিত করা যাবে। এবং সেসব দেশবাসীকে অবহিত করা যাবে। এটা দুটো কারণে জরুরি, একটা হলো এমন ষড়যন্ত্রের যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আরেকটা হলো কারা হত্যাকারীদের বিদেশে পাঠিয়েছে, কার নির্দেশে তাদের বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছে, এগুলোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, এগুলো সরকারি নথিপত্রে আছে, এগুলো দেখলেই তদন্ত করে বের করা যাবে। কাদের নির্দেশে গোলাছাড়া ট্যাংক নামানো হলো, কীভাবে সেনাসদস্যরা গিয়ে নির্মীয়মাণ একটা বিমানবন্দরের অন্ধকারে বসে ষড়যন্ত্র করে তারা বেরিয়ে গেল শহরে... এই যে বিষয়গুলো আছে এগুলোকে সামনে নিয়ে আসা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত