খুলনায় বিয়ের কথা বলে প্রতারণা, ধর্ষণ ও ভ্রsণ নষ্টের অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা এলাকার এক নারী বাদী হয়ে এসআই মো. কাজী আকরাম হোসেনের (৫৩) বিরুদ্ধে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে (৩ নম্বর) মামলাটি করেন। বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী দাবি করেছেন, স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি এবং ভরণ-পোষণ চাওয়ায় অভিযুক্ত আকরাম তাকে ‘এনকাউন্টারের’ হুমকিও দিয়েছেন। অথচ গত ৮ বছর ধরে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই কাজী আকরাম হোসেন বর্তমানে খুলনা সদর থানায় কর্মরত। তিনি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাগাত গ্রামের যশোর আলী কাজীর ছেলে। এর আগে তিনি নগরীর লবণচরা থানায় কর্মরত ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
তিনি জানান, তার মক্কেল এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামি এসআই আকরাম লবণচরা থানায় কর্মরত থাকাকালে ২০১৪ সাল থেকে তার সঙ্গে পরিচয়। এরই সূত্র ধরে আকরাম তাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। সে মোতাবেক ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের এক রাতে শরীয়া মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন তারা। এর মধ্যে আকরামকে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার কথা বললে তিনি নানা অভিযোগে এড়িয়ে যান। এদিকে এক পর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি আকরামকে জানালে চাপ প্রয়োগ করে গর্ভপাতে বাধ্য করেন। এজাহারের বরাতে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান জানান, বিয়ে হওয়ার পর ধর্ষণ, ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ এবং আসামির অপচেষ্টায় বাদীর পেটের দুটি বাচ্চা নষ্ট করা হয়। বর্তমানে তিনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট ফোন করলে এসআই আকরাম ওই নারীর বাড়িতে এসে গালিগালাজ করেন। বলেন, ‘তুই আমার বউ না, সন্তান আমার না, তাহলে তোকে খরচ দেব ক্যান? যদি এই নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করিস তাহলে তোকে এনকাউন্টার করে দেব, তোর এবং তোর পেটের বাচ্চা শেয়াল কুকুরে খাবে।’
