শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা, বিক্ষোভ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ০২:১২ এএম

গাজীপুরে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) থেকে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের তিন দিনেও তাদের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। বিষক্রিয়ায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে এমন প্রাথমিক ধারণার কথা বলছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে কীভাবে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হলো, তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তারা।

এদিকে শিক্ষক দম্পতি জিয়াউর রহমান মামুন ও মাহমুদা আক্তার জলিকে হত্যা  করা হয়েছে দাবি করে এর বিচার দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় এবং আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামারজুরি এলাকার মো. জিয়াউর রহমান মামুন (৪৮) ও তার স্ত্রী টঙ্গীভরান এলাকার আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক মাহমুদা আক্তার জলি (৩৫) গত বুধবার নিজেদের প্রাইভেট কারে করে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন। খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের অচেতন অবস্থায় ওই প্রাইভেট কারের ভেতর দেখতে পান ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। ওই দম্পতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জিয়াউর রহমানের স্বজনদের দাবি, এই শিক্ষক দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বড় ভাই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে গত শুক্রবার মামলা করেন। এতে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের।

শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে গাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দলাল চৌধুরী চিকিৎসকের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বরাত দিয়ে গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষক্রিয়ায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই দম্পতি বাসা থেকে যে খাবার নিয়ে এসেছিলেন, সেই খাবার থেকে নাকি রাস্তায় কোনো খাবার খেয়েছেন, সেই খাবার থেকে অথবা তাদের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে কোনো ধরনের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিতে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছিল কি না, তা পরীক্ষার জন্য প্রাইভেট কারটি বিআরটিএতে পাঠানো হবে।’

অন্যদিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাফি মোহাইমিন বলেন, ‘মারা যাওয়া ওই শিক্ষক দম্পতির ফুসফুস ও কিডনিতে রক্ত জমাট ছিল। এ ছাড়া তাদের ইন্টারনাল ইনজুরিও ছিল। তবে এই ইনজুরি নতুন না পুরনো তা কেমিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। খাদ্যে বিষক্রিয়া, আঘাত বা অন্য কোনো কারণেও রক্ত জমাট এবং ইন্টারনাল ইনজুরি হতে পারে। তবে ভিসেরা রিপোর্ট ও কেমিক্যাল টেস্টের রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত