সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমি দখলের জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মুন্ডাদের পল্লীতে ভাড়া করা লাঠিয়ালদের হামলায় গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার নাম নরেন্দ্রনাথ মুণ্ডা (৭০)। গতকাল শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে শ্যামনগরের ধুমঘাটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মুণ্ডাদের গ্রামে হামলা হয়। জমি দখলে নিতে শ্রীফলাকাটি গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ও ইবাদুল ইসলামের নেতৃত্বে ভাড়া করা শতাধিক লাঠিয়াল ওই হামলা চালায় বলে অভিযোগ মুণ্ডা পল্লীটিরবাসিন্দাদের। হামলায় ফণীন্দ্র মুন্ডার স্ত্রী বিলাসী মুন্ডা (৩৬), সনাতন মুন্ডার স্ত্রী রিনা মুন্ডা (৩৫), লক্ষীন্দর মুন্ডার স্ত্রী সুলতা মুন্ডা (৩৫) এবং মৃত মল্লুকচান মুন্ডার ছেলে নরেন্দ্রনাথ মুণ্ডা (৭০) গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে নরেন্দ্রনাথ মুণ্ডা গতকাল মারা গেলেন। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মুণ্ডা পল্লীতে হামলার ঘটনায় শ্যামনগর থানায় গতকাল সকালে ফণীন্দ্র মুণ্ডা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৬০/১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে দুজনকে শ্রীফলাকাটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো বংশীপুর গ্রামের নূর হোসেন ও শ্রীফলাকাটি গ্রামের নূর মোহাম্মদ।
মামলার এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধুমঘাট গ্রামে মুণ্ডা সম্প্রদায়ের সাড়ে ২৭ বিঘা জমির দখল নিতে শুক্রবার শ্রীফলকাটি গ্রামের এবাদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’
