নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। তবে কতগুলো আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন তার সক্ষমতা ও যৌক্তিকতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসনে ইভিএম ব্যবহার করবে। কত আসনে এবং কোন কোন আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে, কেন ইভিএম ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি আলমগীর বলেন, ‘এই মুহূর্তে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ভোট করার মতো সক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। অনেকগুলো রাজনৈতিক দল ৩০০ আসনে ইভিএম চায়। আবার কোনো কোনো দল একটি আসনেও চায় না। ইসি সবার কথা সমানভাবে গুরুত্ব দিতে পারবে না। ইসি তার সক্ষমতা ও ইভিএমের যৌক্তিকতার ওপর গুরুত্ব দেবে। কারও মুখের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট করার জন্য সক্ষমতা ও ইভিএমের সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ইভিএমে ভোট কম পড়া ও কারচুপির অভিযোগ অপপ্রচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আপনি আমাকে বলবেন, আমি খারাপ। এর তো প্রমাণ দিতে হবে। না হলে আমি খারাপ হিসেবে গণ্য হব কেন? তার মানে এটা অপপ্রচার। যতক্ষণ না আপনি প্রমাণ দেবেন ইভিএমে ভোট কারচুপি করা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এটা বিশ্বাস করব না। কারচুরির বিষয়টি হচ্ছে অভিযোগ, কিন্তু প্রমাণিত নয়। যারা অভিযোগ দিয়েছেন সেগুলো আমরা যাচাই করছি। কিন্তু যারা আমাদের কাছে এসে অভিযোগ দেননি, সেটা তো আমরা আমলে নিইনি।’
ইভিএমে কারচুপির বিষয়ে ইসি চ্যালেঞ্জ দিলেও কেউ সাড়া দেয়নি উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা কয়েকবার ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলাম। লিখিতভাবে বললাম। সেই চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। আপনারা শুধু বাইরে থেকে বলেন, তার ভিত্তিতে তো একটি দেশ বা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আবার ইভিএমের অনেকগুলো সুবিধাও আছে। যেমন- এতে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দিতে পারে না। ব্যালটে যেমন একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে। ইভিএমে সেই সুযোগ নেই।’
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বড় ধরনের অনিয়মে ইসির হাতে ভোট বাতিলের বিধান যুক্ত করে সংশোধনী প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরপিও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যথেষ্ট। তারপরও কিছু কিছু জায়গায় একটু অস্পষ্টতা আছে। আমাদের মনে হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছু কিছু জায়গায় যদি সংশোধন করা হয়, বিষয়টি আরও ভালো হবে। কমিশন মনে করেছে অল্প কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখি, সহজে সেটা মোকাবিলা করা সম্ভব।’
জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে উল্লেখ করে মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা শুমারির প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছি। চূড়ান্ত রিপোর্ট পাইনি। আমাদের হোমওয়ার্ক চলছে। তথ্য সংগ্রহ চলছে। শুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলেই সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
