উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল সোমবার বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন এ মহড়ার নামকরণ করা হয়েছে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। আধুনিক যুদ্ধবিমান, ট্যাংকসহ দুই দেশের কয়েক হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে এই মহড়ায়, চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
২০১৭ সালের পর অর্থাৎ গত ৫ বছরের মধ্যে এটাই দুই দেশের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা।
আগে দুই দেশের এ ধরনের যৌথ মহড়ায় কয়েক হাজার সেনা, রণতরী এবং বিপুলসংখ্যক ট্যাংকের উপস্থিত দেখা যেত। এ বছরের মহড়ার প্রসঙ্গে দুই দেশের সামরিক বাহিনী যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত এক বছরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বাড়ানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই পদক্ষেপ। যদিও মহড়া নিয়ে বিস্তারিত জানায়নি দুই দেশ। তবে এই মহড়ায় বৈশ্বিক যুদ্ধের বদলে যাওয়া পরিস্থিতি মোকাুবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার হামলা ঠেকানোর কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবারের মহড়ায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সিউলকে লক্ষ করে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণের শক্তি বাড়াতে চায় সিউল। এই গ্রীষ্মে মিত্র দুই দেশ মাঠপর্যায়ে ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করবে।
দক্ষিণ কোরিয়া এই মহড়াকে প্রতিরক্ষা জোরদারের মহড়া বললেও উত্তর কোরিয়া একে ‘আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি’ হিসেবে দেখছে। যেকোনো সময় দেশটি সপ্তমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে গত কয়েক বছরে সিউল এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বেশ কিছু নিয়মিত মহড়া বন্ধ ছিল।
