এশিয়া কাপে সাকিব-মোস্তাফিজ হতে পারেন ভীষণ কার্যকর

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫১ পিএম

এশিয়া কাপের সবশেষ দুই আসরের ফাইনালিস্ট ছিল বাংলাদেশ। দুটোতেই শেষ পর্যন্ত হাতছাড়া হয়েছে শিরোপা। দুবারই চ্যাম্পিয়ন ভারত। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবার এই টুর্নামেন্ট হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। ২০১৬ সালেও একই সংস্করণে হয়েছিল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। সেবার ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে হেরেছিল টাইগাররা। এবারও ভালো খেলার লক্ষ্যেই দুবাই পৌঁছেছেন সাকিবরা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে না গেলেও ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার আছেন। সেখানে সাকিব-মোস্তাফিজ হয়ে উঠতে পারেন ভীষণ কার্যকর।

সবশেষ এশিয়া কাপ হয়েছিল ২০১৮ সালে। ওয়ানডে সংস্করণের সেবার টুর্নামেন্টটি হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেবারও ভারতের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় মাশরাফিদের। তিনবার ফাইনাল খেলেও সেবার শিরোপা না জেতায় আক্ষেপে পুড়েছিল দেশ। তবে অতীত অভিজ্ঞতা এবার কাজটা সহজ করে দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা।  এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ফের টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হচ্ছে।

যদিও টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণের ১১টি ম্যাচ খেলেছেন রিয়াদরা। তার মধ্যে ৮টি ম্যাচেই হেরেছেন তারা। জয় এসেছে মাত্র দুটিতে। একটি ম্যাচ বাতিল হয়েছে। সিরিজ হারতে হয়েছে খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ের কাছেও। এমন পরিসংখ্যানের পর এশিয়া কাপের টাইগারদের কাছে জয়ের প্রত্যাশা করাই কঠিন। সেটা মানছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেছিলেন, ‘এই সংস্করণে আমরা খুব একটা ভালো করছি না। তাই মানুষেরও খুব একটা প্রত্যাশা নেই আমাদের কাছে।’  

তবে ভালো খেলা আকাঙ্খা নিয়েই বাংলাদেশ যাচ্ছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে, সেটা জানিয়ে গেছেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। সেই সঙ্গে দর্শকদেরও পাশে থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি।

টাইগার ভক্তদের আশা এবারও এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। কারণ এর আগের তিনবার ফাইনালের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে কাজটা মোটেও সহজ নয়।

পরিসংখ্যান দেখে আশা না জাগলেও দলের নেতৃত্বে সাকিব আল হাসানের ফেরাটা আশা জাগাতেই পারে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তিনি দলে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে দলও ভালো ফল করতে পারেনি। তাই তার নেতৃত্বে উজ্জীবিত বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়নোর প্রত্যাশা সবার। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম দুজনেই অভিজ্ঞ। প্রতিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপের ফাইনালেও ছিলেন তারা। সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেনরাও দলের নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজে মোসাদ্দেক ও আফিফ নিজেদের সামর্থের প্রমাণ দেখিয়েছেন।

বোলিংয়ে অবশ্য আশা দেখাচ্ছেন বেশি স্পিনাররাই। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছাড়াও আছেন নাসুম আহমেদ। নতুন বলে ভীষণ কার্যকরি এই স্পিনার। আটোসাটো বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ভালোই চাপে রাখতে পারেন তিনি। এছাড়া মোসাদ্দেকের বোলিং গত কয়েক মাসে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে তো শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া শেখ মাহেদী ও মেহেদি হাসান মিরাজ একাদশে জায়গা পেলে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাখার সামর্থ আছে তাদের।

আরব আমিরাতের পিচগুলো যদিও স্পিন সহায়ক নয়। সেক্ষেত্রে এবাদত হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদরাও জ্বলে উঠতে পারেন। প্রত্যেকেরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রয়েছে। যদিও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন না তারা। নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিলে দারুণ কার্যকর হয়ে উঠতে পারেন এই পেসার।

টাইগারদের চাবিকাঠি যদি বলতে হয়, তাহলে দুজনেরই নাম আসবে। এ দুজনেই আইপিএল মাতানো ক্রিকেটার। একজন সাকিব আল হাসান, অন্যজন মোস্তাফিজুর রহমান। যদিও সবশেষ আইপিএলে সাকিব কোনো দল পাননি। তবে মোস্তাফিজুর রহমান দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে মাঠ মাতিয়েছেন।

সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক দলের সেরা ক্রিকেটার। এশিয়া কাপে যদি বড় কিছু অর্জন করে, সেখানে সাকিবের বড় ভূমিকা থাকার সম্ভবনাই বেশি। এই অলরাউন্ডারের একাই ম্যাচের মোড় ঘুরানোর সামর্থ আছে। গত আইপিএলে না খেলতে পারায় এবার তার ব্যাটে-বলে তান্ডব দেখা যেতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমান

কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান টাইগারদের বড় কান্ডারি। তার বোলিংয়ের বৈচিত্র ব্যাটাররা ধরতে পারেন না। ফলে ভীষণ কার্যকর এই পেসার। তবে সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে তিনি যেন ধুকছিলেন। নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না ফিজ। ধারাবাহিক কোনো পারফর্মও দেখা যায়নি। সবশেষ ১৩ ইনিংসে ২০ উইকেট পেলেও সেগুলো ছিল নিচের সারির ব্যাটারদের। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যিনি ১৮.১১ গড় নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন, সেই পেসারের এবার এশিয়া কাপে তা দাঁড়িয়েছে ২৪-এ।  তবে পেস সহায়ক আরব-আমিরাতে উইকেটে চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন ফিজ।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), আনামুল হক, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, পারভেজ হোসেন, মো. ইমন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত