সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুদকার মারা গেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মাহবুব তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা, এক ছেলেসহ অসংখ্য বন্ধুবান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাহবুব তালুকদারের ৩ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ডা. আইরিন মাহবুব ঢাকায় বসবাস করছেন। অন্যদের মধ্যে একজন কানাডায় ও একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মাহবুব তালুকদারের মেয়ে আইরিন মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (বুধবার) সকালে উনার শারীরিক অবস্থার খুব অবনতি হয়। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। দুপুর ১টার দিকে উনি মারা যান।’
মাহবুব তালুকদার ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে মাহবুব তালুকদারের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘একজন মাহবুব তালুকদার ছিলেন, যার কল্যাণে নির্বাচন কমিশনার থাকাকালীন দেশের নির্বাচনে প্রাতিষ্ঠানিক অনেক ফাঁক-ফোকরের কথা দেশবাসী জানতে পেরেছিল। দেশের চলমান নির্বাচনী ব্যবস্থার গলদ এখন সবার কাছে স্পষ্ট। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।’
মাহবুব তালুকদার ১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মুজিবনগর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তাকে উপসচিবের পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সময়ে তিনি তার জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মাহবুব তালুকদার তার সহকারী প্রেস সচিবের (উপসচিব) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাহবুব তালুকদার একজন বিশিষ্ট সৃজনশীল লেখক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৪০টি। তিনি ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
