নেত্রকোনার কলমাকান্দায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। গত বুধবার রাতে খারনৈ ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, হামলায় তাদের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর সাতজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইদ্রিস আলী (৩৫) ও সৈকত আলী (২৫) নামে বিএনপি সমর্থিত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত ২০ আগস্ট খারনৈ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ওলি-উল্লাহ বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ গোলাপসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা জেলা আদালতে মামলা করেন। এ মামলার জের ধরেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের তথ্য অনুযায়ী হামলায় আহত তাদের ২০ নেতাকর্মীর মধ্যে রয়েছেন নাজিম হোসেন লিমন, হাবিবুল্লাহ হক, শফিকুল ইসলাম, রবি মিয়া, শফিকুল ইসলাম, শরিফ মিয়া, ওয়াসিম উদ্দিন, মানিক মিয়া ও নাজিম উদ্দিন। অন্যদিকে বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন কলি আক্তার, মুনজুত আলী, ইসমাইল, খলিল, ইব্রাহিম, মোজাম্মেল, শফিক, আনোয়ার ও মকশুদুল।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
দলীয় অফিসে হামলার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির সমাবেশে হামলা ও দলীয় অফিস ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান।
তিনি বলেন, বুধবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি সার, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করা হয়। জেলাপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে হামলা চালান। তারা সভামঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, প্রচার মাইক ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে জখম করেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে এবং স্থানীয় এমপির পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়। এসব উসকানিমূলক বক্তব্য শুনে স্থানীয় জনতা এবং আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ করলে বিএনপি কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এতে দাপটের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আওয়ামী লীগের চারজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়।’
খুলনায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরকারীদের শাস্তি দাবি : খুলনার দৌলতপুরে গত বুধবার বিকেলে বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড ও দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, গত বুধবার বিকেলে দৌলতপুরে সমাবেশ আহ্বান করা হয়। দৌলতপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে বিএল কলেজ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই কলেজের ছাত্রলীগ ও স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে দেয়। হামলাকারীরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার, টেবিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ভাঙচুর ও গালাগাল করে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা এবং ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
