রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান চান গুতেরেস

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ০১:৫২ এএম

সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের শিগগিরই নিজ দেশে ফিরতে পারবে না বলে মনে করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনার পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, গত বছর মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেখানকার মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকটের পরিপূর্ণ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান জরুরি।

এদিকে গতকাল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা একাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও রাজস্ব হাতে পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের ন্যায়বিচার চেয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত বুধবার পৃথক বিবৃতিতে সংস্থা দুটি এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।  

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-নিপীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর জেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বিবৃতিতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের শিগগিরই নিজ দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে রাখাইনের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

গুতেরেস বলেন, মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া সব আন্তর্জাতিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমার ও দেশটির মানুষের জন্য একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ন্যায়বিচার চায় এইচআরডব্লিউ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের ন্যায়বিচার চেয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে গত বুধবার এ দাবি জানিয়েছে সংস্থা দুটি।

এইচআরডব্লিউ বলছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করা হয়েছে, তার জন্য এখন পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা হয়নি। ওই ঘটনার পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে, যেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ এই অঞ্চলে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের জন্য ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করতে হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পৃথক বিবৃতিতে বলছে, পাঁচ বছর পর এসে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের এখনো স্বাধীনতা নেই। তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে না। পর্যাপ্ত খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারেও বঞ্চনার শিকার তারা। সংস্থাটির ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর ফর ক্যাম্পেইনস মিং ইউ হাহ বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নের পাঁচ বছর পূর্তি মনে করিয়ে দিচ্ছে, এর জন্য মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি। এই জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন করেও বছরের পর বছর যে দায়মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে, তার ইতি টানতে ন্যায়বিচার জরুরি।

সেনাবাহিনীসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা : মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা একাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল যুক্তরাজ্য সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্টার স্যাফায়ার গ্রুপ অব কোম্পানিজ, ইন্টারন্যাশন্যাল গেটওয়েজ গ্রুপ অব কোম্পানিজ (আইজিজি) ও স্কাই ওয়ান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও রাজস্ব হাতে পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত