শুরুতে তিন টপ অডারকে হারানোর চাপটা সামলে উঠেছিল শ্রীলংকা। রাজাপাকশে ও গুনাথিলাকার ব্যাটে বড় সংগ্রহের দিকেই যেন ছুটছিল। কিন্তু গুনাথিলাকার বিদায়ে পের দিশাহারা হয় লংকানরা। এক পর্যায়ে তিন অংকের রানে পৌঁছানো নিয়েই দেখা দেয় শঙ্কা। তবে সে শঙ্কা মেঘ দূর করেন চামিকা কারুনারত্নে। তার ব্যাটে আফগানদের ১০৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে এশিয়া কাপের আয়োজকরা।
লংকানরা এদিন শুরু থেকেই ছিল চাপে। কুশল ম্যান্ডিসকে এলবিডব্লি-এর ফাঁদে ফেলে প্রথম সাফল্য এনে দেন ফজল হক ফারুকী। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে পুল লেংথের বলটি সুইং করে লেগ স্টাম্পে। সেটা ফ্লিক করার চেষ্টা করেছিলেন মেন্ডিস। কিন্তু বল ব্যাটের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারেননি। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১২ রান দিলেও রশিদ খান ছিলেন উইকেট শূন্য।
এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করেন ফারুকী। কিন্তু আম্পায়ার সায় না দিলে রিভিউ নেন। টিভি আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে ফিরে যেতে হয় মেন্ডিসকে।
একই পরের বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরের। কিন্তু সেটাও সুইং করে লেগ স্টাম্পে আঘাত করে। এবার আর আউটের সিদ্ধান্ত দিতে ভুল করেননি আম্পায়ার। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান চারিথ আসালাঙ্কা। দীর্ঘক্ষণ সতীর্থ ব্যাটারের সঙ্গে কথা বলে গেলেও নেননি রিভিউ। ফলে ফারুকীর সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসে।
তবে পরের ওভারেই আফগানদের তৃতীয় সাফল্য এনে দেন নাভিনউল হক। ঐ ওভারের শেষ বলে পাথুম নিশানা উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা এজ হয়ে ধরা পড়ে উইকেট রক্ষকের হাতে।
নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে উইকেট নিতে পারলেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন ফারুকী। তবে গুনাথিলাকা আর ভুল করেননি। ডট বল খেলে ফারুকীকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা শ্রীলংকা প্রথম ২০ বলে কোনো বাউন্ডারি আদায় করতে পারেনি। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে নাভিন উল হকের বলে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন ভানুকা রাজাপাকশে। এই ছক্কা মেরেই ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি আসে শ্রীলংকার রানের খাতায়।
দানুশকা গুনাথিলাকাকে সঙ্গে রাজাপাকশে ৪৪ রানের একটি জুটি গড়েন। করিম জানাতের করা অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে রিভার্স সুইপ করেছিলেন গুনাথিলাকা। উদ্দেশ্য সফল হয়নি তার ডিপ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা মুজিব ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করেননি। তার বিদায়ে ভাঙে চতুর্থ উইকেটের এই জুটি।
গুনাথিলাকার বিদায়ের পর যেন আফগানরা ফের চেপে ধরে শ্রীলংকাকে। দশম ওভারের দ্বিতীয় মুজিব-উর রহমানও বোলিংয়ে এসে ফিরিয়ে দেন হাসারাঙ্গা ডি সিলভাকে। উড়িয়ে মারতে গেলে মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়ক নবী তালুবন্দী করেন।
পরের ওভারেই আফগান অধিনায়ক শিকার করেন লংকান অধিনায়কের উইকেট। দাসুন শানাকা রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। নবীর বল আউসাইটের বলটি উড়িয়ে মারতে গেলে এজ হয়। উইকেট রক্ষক গুরবাজ তা তালুবন্দী করলে ঘটে ষষ্ঠ উইকেটের পতন।
একদিকে যখন শ্রীলংকার ব্যাটাররা যাওয়া আসার মিছিলে ছিলেন। অন্য প্রান্ত তখন আগলে রেখেছিলেন ভানুকা রাজাপাকশে। কিন্তু শেষ অবধি দলকে টেনে নিতে পারেননি ফিরে যান রান আউটের শিকার হয়ে। ২৯ বলে ৩৮ রান করা এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে এসেছিল ৫টি চার ও একটি ছক্কা।
রাজাপাকশের বিদায়ের পর একশ রানের আগেই অল-আউটের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা কাটে কারুনারত্নের ব্যাটে। ৩৮ বল খেলে ৩১ রানের ইনিংসটি তিন অংকের রান পাড় করতে ভূমিকা রাখে। তার ব্যাট থেকে আসে তিন চার ও এক ছক্কা।
আফগানিস্তানের হয়ে ফারুকী ১১ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মুজিব ও নবী দুটি করে এবং নাভিন একটি উইকেট শিকার করেন।
