রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুতর বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে জানান, খালেদা জিয়ার লিভার ও কিডনির অবস্থা খারাপ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে হাসপাতালেই থাকতে হবে। তবে ওই চিকিৎসক আশা প্রকাশ করেন, মানবিক কারণে সরকার এবার তাকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেবে।
ওই চিকিৎসক বলেন, ‘কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গত রবিবার রাতে ষষ্ঠবারের মতো এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। তার লিভারের সমস্যা আরও গুরুতর হয়েছে। কিডনির জটিলতাও বেড়েছে। তাকে কেবিনে রাখা হয়েছে। তবে তিনি সিসিইউর ডাক্তার ও নার্সদের পর্যবেক্ষণে আছেন। তার আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। যার ভিত্তিতে তার চিকিৎসা চলছে।’
তবে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ম্যাডামকে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তার চিকিৎসা চলছে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
ডা. জাহিদ জানান, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার এবার তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি দেবে বলে আশা করছেন তারা।
এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। এর আগে ২২ আগস্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি পরীক্ষা শেষে গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলে খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর গত জুন পর্যন্ত তাকে পাঁচ দফায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। মাঝে এক বছর কারা কর্র্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২০ সাল থেকে শর্ত সাপেক্ষে কারামুক্ত হন বিএনপি নেত্রী। তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ কয়েকবার আবেদন করা হলেও, সরকার তা বাতিল করে দেয়।
