অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা অবশেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২৯০ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে । ঋণ ছাড় করতে সংস্থাটির সঙ্গে প্রাথমিক একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে দেশটি।
আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি তথা বর্ধিত ঋণ সুবিধার অধীন চার বছর মেয়াদে এই ঋণ দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইএমএফ।
১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্যের কোঠায়। ফলে জ্বালানি তেল, খাবার ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্য আমদানি করতে পারছে না দেশটি।
নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন। এ কারণে দেশটির রাজনীতিও কয়েক মাস ধরে অস্থির। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতন ঘটেছে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক রণিল বিক্রমাসিংহে।
চলমান সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চায় দেশটির নতুন সরকার। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ঋণ বিষয়ে আলোচনা করতে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে কলম্বোয় পৌঁছায়। শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে তারা।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) কলম্বোয় পার্লামেন্টে নিজের বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে।
বুধবার (৩১ আগস্ট) রয়টার্স জানায়, ঋণ ছাড়ের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে প্রাথমিক (স্টাফ লেভেল) একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কা।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ঋণ ছাড়ে সম্মতির বিষয়টি জানায় আইএমএফ। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, ‘এই ঋণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য শ্রীলঙ্কার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা’।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং শ্রীলঙ্কার শর্ত পূরণের ভিত্তিতে এ চুক্তি চূড়ান্ত হবে। তবে ঋণের জন্য শ্রীলঙ্কার সরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়েছে আইএমএম। পাশাপাশি বেসরকারি ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইএমএফের ঋণ পরিশোধ ও অর্থায়নের ব্যবধান দূর করতে শ্রীলঙ্কার ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি ও বহুপক্ষীয় অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের নিশ্চয়তার প্রয়োজন পড়বে।
আইএমএফের এ ঋণ কর্মসূচির লক্ষ্য শ্রীলঙ্কাকে রাজস্ব পুনর্গঠনে সহায়তা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার ও দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ পুনর্গঠন করা।
এদিকে কিস্তি দিতে না পারায় শ্রীলঙ্কার প্রায় তিন হাজার কোটি ডলারের ঋণ পুনর্গঠন করতে হবে। এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য ভারত ও চীনসহ অন্যান্য প্রধান ঋণদাতা দেশের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান।
এদিকে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও আটক আন্দোলনকারী নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে কলম্বোর রাজপথে বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
