বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে চাকরিচ্যুত ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ট্রাইব্যুনালের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ রায় দেয়।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৩২৭ জনকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৩২৭ জনের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮৫ জন অনুত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন চাকরিচ্যুতরা।
২০০৯ সালের ২৩ মার্চ আবেদন খারিজ করে রায় দেয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল মঞ্জুর করে ৮৫ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। এরপর ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক চারটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল এ রায় আসে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। চাকরিচ্যুত নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, প্রবীর নিয়োগী, সালাহ উদ্দিন দোলন ও কামরুল হক সিদ্দিকী।
অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০০৫ সালে তাদের নিয়োগ নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন নেতিবাচক কথাবার্তা আসে। পরে মূল্যায়ন পরীক্ষায় তারা (৮৫ জন) উত্তীর্ণ হতে পারেননি। আজকের এই রায়ের ফলে তাদের যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল সেই সিদ্ধান্ত বহাল রইল।’
