দেশের অর্থনীতিতে উবারের অবদান ৪৫০০ কোটি টাকা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০১ এএম

গেল বছর দেশের অর্থনীতিতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার অবদান রেখেছে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার। যা যাত্রী, চালক ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করেছে। উবারের মাধ্যমে চালকদের উপার্জনের প্রভাব এবং কোম্পানির বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থায় পরোক্ষ ও বহুমুখী প্রভাবও রয়েছে। একই বছরে উবারের রাইড কনজিউমার সারপ্লাসে ৭ হাজার কোটি টাকা উৎপাদন করেছে, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে উবার প্রকাশিত বাংলাদেশের ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিপোর্টে এসব তথ্য তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পাবলিক ফার্স্ট।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ইকোনমিক ইম্প্যাক্ট রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে উবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযাত্রায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জোয়ারে এ গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি সেই লক্ষ্য অর্জনে উবারের মতো আরও ব্র্যান্ড আমাদের উন্নয়নের অংশীদার হবে।’

গবেষণায় বলা হয়েছে, ৯৬ শতাংশ নারী যাত্রী উবার বেছে নিয়েছেন নিরাপত্তার কারণে। চালকদের এ বর্ধিত সুবিধার আনুমানিক মূল্য ৭২ কোটি টাকা। ৯০ শতাংশ যাত্রী যাতায়াতের সুবিধার কারণে উবার ব্যবহার করেন। ৭২ শতাংশ নারী যাত্রীর রাতে দেরিতে বাড়ি পৌঁছানো এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। উবারের সেবার কারণে বছরে আনুমানিক ১ কোটি ৭০ লাখ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হয়।

পাবলিক ফার্স্টের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ শতাংশ চালক ২০২১ সালে তারা উবার নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন, তারা উবারের মাধ্যমে গত বছর তারা অতিরিক্ত ৫২ দশমিক ২ কোটি টাকা আয় করেছেন, যা তাদের সম্ভাব্য পরবর্তী সেরা বিকল্প আয় বা কাজের উৎসের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। ব্যক্তিগত গাড়ি নেই এমন ৮৪ শতাংশ যাত্রী উবারের মতো রাইডশেয়ারিং সার্ভিসের সহজলভ্যতার কারণে তারা নিজেদের গাড়ি না কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। উবারের প্রতি ছয়টির মধ্যে একটি ট্রিপ গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ২৯ জন উবার ব্যবহার ও ৯৮৭ জন বাংলাদেশি উবার গাড়িচালক।

উবারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি ও গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর মাইক অরগিল বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে উবার। যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা কীভাবে মানুষকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয় এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সাহায্য করে তা গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত