আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন। পরীক্ষা উপলক্ষে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ২০ দিন দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
এ বছর তিন ঘণ্টার পরিবর্তে প্রতিটি পরীক্ষা হবে দুই ঘণ্টায়। বেলা ১১টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অর্থাৎ ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে শিক্ষার্থীদের।
গতকাল সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। তবে পরীক্ষার কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।’ এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী একটা বড় সংখ্যায় থাকে। গত বছর আমরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মাত্র তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নিয়েছি। তাতে পাসের হারও অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সে কারণে এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম। তাই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।’
এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা ও পালন না করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে সেটি পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটবে। সেটি থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরত থাকতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীদের চাইতে রাজনীতি বড় নয়।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে সাংবাবিদকদের প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজ চাইলে, সচেতন মানুষ চাইলে, দায়িত্বশীল সুনাগরিক-বিশ্ব নাগরিক গড়তে চাইলে, রাজনৈতিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতি থাকবে কী থাকবে না, তা সেই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু কোনো স্বাভাবিক-সুস্থ প্রক্রিয়াকে নিষিদ্ধ করলে সেটির ফলাফলও আবার ভালো হয় না। সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। মাদ্রাসা বোর্ডে অংশ নেবে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিলে (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন। এবার কেন্দ্র ৩ হাজার ৭৯০টি। গত বছর ছিল ৩ হাজার ৬৭৯টি। সে হিসাবে কেন্দ্র বেড়েছে ১১১টি। এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ৫৯১টি। গত বছর ছিল ২৯ হাজার ৩৫টি। সে হিসাবে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৫৫৬টি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রমুখ।
