প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের। সেই হিসেবে সফরের আগের দিন রবিবার রাত পর্যন্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু সফরের দিন সোমবার আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তাই গতকাল মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তার একাধিক স্বাস্থ্যপরীক্ষাও হয়। আজ বুধবার সেসব পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে।
সোমবার থেকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সরকারের দায়িত্বশীলরা অনানুষ্ঠানিকভাবে তার অসুস্থতার খবর জানালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য জানা যাচ্ছিল না।
গতকাল বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউর হার্ট ফেইলিউর ও অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের দুজন চিকিৎসক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষার সমন্বয় করেন। ইকো-কার্ডিওগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষা করা হয় তার। বুধবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বাসায় বসে নিজ দপ্তরের কাজ তদারকি করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই হাই অফিশিয়াল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সচিব দেশের বাইরে থাকায় ড. মোমেনকেই কাজের তদারকি করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও ঝিমুনি রোগে ভুগছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কিছুটা অসুস্থ বলে ভারত সফরে যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘অসুস্থ থাকলে অফিস করা যায়, কিন্তু এত হাই লেভেল ভিজিট করা কঠিন। আমিও তো কিছুটা অসুস্থ থাকলেও অফিস করি, কিন্তু সে অসুস্থ অবস্থায় আমার পক্ষে কি বিদেশ সফর করা সম্ভব, সম্ভব না।’
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, যখন কোনো কূটনীতিক কারও সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন না, তখন অজুহাত হিসেবে ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কথা বলা হয়। এ অজুহাতটি কূটনীতিতে বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার হয়ে থাকে। কূটনীতির ভাষায় এটিকে ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইলনেস’ বলে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে রবিবার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতে যাচ্ছেন। তার ভারতে যাওয়া না হলেও দেশটির গণমাধ্যমে তার ভারত যাওয়ার ভুল তথ্যও পরিবেশন করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী দেশের সরকারপ্রধান যখন রাষ্ট্রীয় সফরে কোথাও যান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্যই তার সফরসঙ্গী হন। কিন্তু এবারই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরকারী দলে নেই।
সম্প্রতি ‘হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ভারতের সহায়তা চাওয়া’ নিয়ে একটি বক্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ড. মোমেন। সে কারণে তিনি এই সফর থেকে বাদ পড়ে থাকতে পারেন বলেও মন্তব্যে করছেন কেউ কেউ।
