বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, ভ্যাকসিন, পরীক্ষাগার, প্রতিষেধক উৎপাদন ও নীতি উন্নয়নে ৮০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার দেবে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও নীতি উন্নয়নে এবং ৫০ কোটি ডলার দেবে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন প্রকল্পে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের স্বাস্থ্য খাতের গ্রুপ প্রধান দিনেশ অরোরার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ২০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফরে আসবে।
প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত ভ্যাকসিন উৎপাদন ও নীতি উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার জন্য ৩০ কোটি ডলার এবং স্বাস্থ্য খাতের মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রকল্পে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা প্রদানে কর্মকা-ের মূল নীতি, কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময়সূচি, অর্থায়নের পরিমাণ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশে আসার ছাড়পত্র প্রদানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরীফা খানের কাছে গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটির ঢাকা অফিস।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিতে যাচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। অবশ্য এডিবি গত দুই অর্থবছরে বাংলাদেশকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিয়েছে।
কভিডের কারণে স্বাস্থ্য খাতে খরচ বেড়েছে। আগের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি। স্বাস্থ্য খাতের চাপ সামলাতেই মূলত সরকার এই সহায়তা নিচ্ছে।’
দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সাধারণ ভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ দেয়। এ ধরনের অর্থ সহায়তা পেতে খাতভিত্তিক প্রকল্প তৈরি করতে হয়। সহায়তার অর্থ নেওয়া সরকারের জন্য বেশি সুবিধাজনক। তবে এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে প্রায় সবকিছু স্থবির হয়ে যায়। সরকারের আয় কমে যাওয়ায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। তখন জরুরি ভিত্তিতে অর্থসহায়তা দিয়েছিল এডিবি।
বাড়তি আমদানি খরচ মেটানো ও ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল করে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখতে বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে যাচ্ছে সরকার। সুদের হার, শর্ত ছাপিয়ে যেকোনো উপায়ে ডলার সংগ্রহ করতে চায় সরকার। এ জন্য গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকার কাছে ডলার চেয়েছে সরকার। চারটি বড় দাতা সংস্থার কাছে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে।
