যুবককে হত্যার পর মাটিচাপা, বাবা-ভাই গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৩ পিএম

নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নূর হোসেন শাকিল (২৫) নামের এক যুবককে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

হত্যার তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহতের ছোট ভাই এমাম হোসেন (২২), বাবা বশির হোসেন বাবুল মিয়া (৬০)।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ৯নং মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লালপুর এলাকার আব্দুল করিম হাজী বাড়ির পুকুর পাড় থেকে পুলিশ এ লাশ উদ্ধার করে।

এর আগে, গত শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা শাকিলকে হত্যা করে লাশ বসতঘর সংলগ্ন পুকুর পাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

নিহত শাকিল উপজেলার ৯নং মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লালপুর এলাকার আব্দুল করিম হাজী বাড়ির হোসেনের ছেলে।

বুধবার রাত ৮টায় নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিরওয়ারিশপুরের লালপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে গুম করে রাখার সংবাদ পায় পুলিশ।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে শাকিলের বাবা বশির হোসেন বাবুলকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তার ছেলে শাকিল ২০ হাজার টাকা না দেওয়ায় বাড়ি থেকে চলে গেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বেগমগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি টিম শাকিলদের বাড়ি গিয়ে তার বাবা, মা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর নিহত শাকিলের ছোট ভাই এমাম হোসেন জানান, শাকিল মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনের টাকার জন্য গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার মা ফাতেমা বেগমকে মারধর করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এ ঘটনায় এমাম হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তার বাবাসহ ওই রাতে বাড়ির পুকুর পাড়ে শাকিলকে মাটিচাপা দেয়া হয়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এসপি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে থানায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি জানান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত