বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে থাকাকালীন দুই দেশের যৌথ ঘোষণা হলো সীমান্তে হত্যা জিরোতে আনা হবে। সেদিনই দিনাজপুরের সীমান্তে একজনকে হত্যা করা হয়েছে আর দুজন নিখোঁজ। এই হচ্ছে প্রাপ্তি। কুশিয়ারা নদীর ৫৩ কিউসেক পানি ছাড়া দৃশ্যমান প্রাপ্তি নেই।’ গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে ভারত থেকে যানবাহন কেনার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে অত্যন্ত সুন্দর সুন্দর কথা বলা হচ্ছে, তাদের ভালোবাসা-প্রেম নিজেদের মধ্যে, সেগুলোর কথাগুলো খুব জোরেশোরে বলা হচ্ছে সেটাই আমরা বুঝতে পেরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চার দিনের সফর শেষ করে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছেন। এ সফরকালে ভারতের সঙ্গে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন যে, তিনি ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে যেকোনো উপায়ে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা যেন ব্যবস্থ নেয়। আমরা চাই গণতান্ত্রিক বিশ্ব সারা বিশ্বে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য তাদের ভূমিকা অক্ষুণœ রাখবে। ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ, গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতও তাদের যে গণতান্ত্রিক চরিত্র সেই চরিত্রকে অক্ষুণ্ন রাখবে।’
মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
‘রেইন অব টেরর শুরু হয়েছে’ : মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন বিএনপি সন্ত্রাস করছে। কিন্তু আমি বলতে চাই বিএনপি সন্ত্রাসে বিশ^াস করে না। সন্ত্রাস করে না। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আমরা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মসূচি পালন করছি। এখন পর্যন্ত আপনারা দেখেছেন যে মিডিয়াতে কোথাও কোনো সন্ত্রাসের চিত্র আসেনি। সন্ত্রাসের চিত্র যা এসেছে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের চিত্র এসেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা চড়াও হয়েছে গণতন্ত্রকামী মানুষের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপরে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের তিনজন নেতা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতা, তারা নিহত হয়েছেন। কারও কারও চোখ নষ্ট হয়েছে। সরকার সারা দেশে আবার “রেইন অব টেরর”, সন্ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে। সন্ত্রাস দিয়ে কখনো টিকে থাকা যায় না।’
মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন হেলেন জেরিন খান, নাজমুননাহার বেবী, নেওয়াজ হালিমা আরলী, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ প্রমুখ।
