জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পরীক্ষা-নিরিক্ষা। এশিয়া কাপ পর্যন্ত তা চলমানই ছিল। তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য তিন জাতির টি-টোয়েন্টি সিরিজেও খেলোয়াড়দের পরখ করা হবে! নাকি দেশ থেকেই বাছাইকৃত সেরা দল নিয়ে যাবে টাইগাররা! কার কতটা সামর্থ্য সেটা দেখার জন্য এটুকুতেই যথেষ্ঠ হওয়ার কথা। বিসিবিও মনে করে সেটাই। তাই কিউদের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আর কোনা নিরিক্ষা নয় বলে মনে করে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সঙ্গে এই সিরিজে অংশ নেবে পাকিস্তানও। এই সিরিজে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা দলকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টের। যেখানে সর্বোচ্চ ফল পেতে চায় বাংলাদেশ।
জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার টুর্নামেন্ট হবে না। যেহেতু বিশ্বকাপের কাছাকাছি সময়ে, তাই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা দলটাই সেখানে খেলবে। অবশ্যই এশিয়া কাপটা বিশ্বকাপের একটা প্রস্তুতি ছিল। তবে বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজই শেষ টুর্নামেন্ট। সেখানে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো বিষয় নেই। বিশ্বকাপে যারা খেলতে যাবে সেখানে তাদেরকেই দলে রাখা হবে।’
এশিয়া কাপের আগে হঠাৎ করেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নুরুল হাসান সোহানকে নেতৃত্ব দিয়ে এক ঝাক তরুণ দলকে পাঠানো হয় জিম্বাবুয়েতে। টি-টোয়েন্টিতে নতুন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে যুগান্তকারি একটা উদ্যোগ নিয়েছিল বিসিবি। তবে সোহানের চোটে শেষ ম্যাচের আবার রিয়াদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে সিরিজ হারলে ক্রিকেটারদের সরাসরি সমালোচনা করেন টাইগারদের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। পরে এশিয়া কাপের আগেই সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এশিয়া কাপের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান আফিফ। টেকনিক্যাল কনসালটেন্টের মোড়কে নিয়োগ দেওয়া টি-টোয়েন্টিতে আলাদা কোচকেও।
তবে এবার আর পরীক্ষা-নিরিক্ষায় থাকতে চায় না বিসিবি। সেজন্য জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন শনিবার মিরপুরে জানালেন, এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এনে এবং আগের অভিজ্ঞতা, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে।
এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘পাশ কে করেছে, ফেল কে করেছে সেটা আসলে আমি বলতে চাচ্ছি না। দল নির্বাচনের আগে সেটা বলাও মুশকিল। কিন্তু নিশ্চিতভাবে আমরা চাই সবাই পাশ করুক। সবাই ভালো করুক, সেটাই আমাদের দরকার। কারণ বিশ্বকাপে আমাদের ভালো করতে হলে দলগত সাফল্যেরও খুব দরকার হবে।’
ত্রিদেশীয় সিরিজ বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের। ডাবল লিগ পদ্ধতিতে ৪টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে দলগুলো। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়ে থাকলে খেলার সুযোগ থাকবে ফাইনালেও। এছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে নামার আগে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও আছে। সব মিলিয়ে সাত ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়াতে নামার সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।
এজন্য অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের ক্যাম্প ছিল সেটা বাদ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলেও দুই-একটি জায়গা নিয়েই আলোচনা চলছে। ওপেনিংয়ে লিটনের সঙ্গী কে হবেন? পাঁচে মাহমুদউল্লাহ নাকি ইয়াসির আলী রাব্বী। রোববার ঢাকায় পা রাখবেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরণ শ্রীরাম। তার ঢাকায় আসার পর তিনদিনের ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ।
সেখানে দল চূড়ান্ত হলে ঘোষণা করা হবে বলে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘দল নিয়ে আমরা এখানও আলাপ-আলোচনার পর্যায়েই আছি। যারা আমাদের পরিকল্পনায় আছে, সবাইকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। সেই আলাপ-আলোচনা এখনও আমরা শেষ করতে পারিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষ করতে পারলেই দল দিয়ে দিব।’
