শুল্কারোপে ভারতে আটকে গেছে রপ্তানির ১০ লাখ টন চাল

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৬ পিএম

হঠাৎ করে বিভিন্ন ধরনের চাল রপ্তানিতে শুল্ক ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে ভারত। কিন্তু রপ্তানিকারক এবং ক্রেতারা নতুন আরোপ হওয়া শুল্ক দিতে রাজি না হওয়ায় ভারতীয় বন্দরগুলোতে প্রায় ১০ লাখ টন চাল আটকে আছে। খবর রয়টার্সের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচজন রপ্তানিকারক জানিয়েছেন, ক্রেতারা চুক্তিতে নির্ধারিত দামের বাইরে কোনো মাশুল দিতে না চাওয়ায় বন্দর থেকে জাহাজে কোনো চাল বোঝাই হচ্ছে না।

ভারতের রপ্তানিকারকরা বলছেন, বন্দরগুলোতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন সাদা চাল ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টন ভাঙা চাল বা খুদ রপ্তানির অপেক্ষায় আছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১৫ দিন আগে শুল্ক বাড়ানোর নোটিস দেওয়া হয়। মাত্র এক দিনের নোটিসে বাড়তি শুল্কহার কার্যকর করায় মূলত বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা।

এআইআরইএ সভাপতি বিভি কৃষ্ণ রাও জানান, মাঝরাত থেকে শুল্ক কার্যকর হয়, কিন্তু ক্রেতারা তা দিতে প্রস্তুত নন। আমরা জাহাজে চাল ওঠানো বন্ধ রেখেছি।  ভারতের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে চালের জোগান বাড়াতে এবং দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ধরনের চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি খুদ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। তবে রপ্তানি শুল্কের তালিকা থেকে সেদ্ধ ও বাসমতি চাল বাদ রাখা হয়। গত শুক্রবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এআইআরইএ) সভাপতি বিভি কৃষ্ণ রাও বলেন, মাঝরাত থেকে শুল্ক কার্যকর হয়, কিন্তু ক্রেতারা তা দিতে প্রস্তুত নয়। আমরা জাহাজে চাল ওঠানো বন্ধ রেখেছি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টন চাল রপ্তানি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চালান যায় কাকিনাদা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমের মতো পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে।

ভারতের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সত্যম বালাজির নির্বাহী পরিচালক হিমাংশু আগারওয়াল জানান, এ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি এর আগে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। সরকারের নীতি পরিবর্তনের তারিখের আগে ঋণপত্র (এলসি) কিংবা আমদানির বিপরীতে অর্থ পরিশোধের চুক্তিগুলো বাড়তি শুল্কের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিল।

কিন্তু এবার সেটা ঘটেনি উল্লেখ করে হিমাংশু আগারওয়াল বলেন, চালের ব্যবসায় লাভ খুবই সামান্য এবং রপ্তানিকারকদের বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক দেওয়ার সামর্থ্য নেই। এরই মধ্যে যেসব এলসি ইস্যু করা হয়েছে সরকারের উচিত তার বিপরীতে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া। চলতি বছর গম রপ্তানিতে যখন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তখন আগে থেকে যেসব এলসি ইস্যু করা হয়েছিল তাদের রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল নয়াদিল্লি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুক্রবার থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় বন্দরগুলোতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন সাদা চাল পড়ে আছে।

রয়টার্স জানায়, খুদ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির আগে শুল্ক বিভাগে যেসব চালান পৌঁছেছে কিংবা বৃহস্পতিবারের আগে যেসব জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে তাদের খুদের চাল নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে সেসব চাল জাহাজে ওঠাতে হবে। তবে এর বাইরে অন্তত সাড়ে তিন লাখ টন খুদের চাল বিভিন্ন বন্দরে পড়ে আছে। যেসব কার্গো এসব চাল নেওয়র জন্য রওনা দিয়েছে তাদের ফিরে যাওয়া সম্ভব না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লিভিত্তিক আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্য সংস্থার ডিলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত